সংবাদ প্রতিবেদন
জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও গুলি করেছেন সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, এমন অভিযোগে কিশোরগঞ্জে একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ১২৪ জনকে।
মঙ্গলবার ১৫ই জানুয়ারি বিকেলে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন তহমুল ইসলাম (২৭) নামের এক তরুণ।
জানা যায়, গত ৫ই আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ সদর থানায় ১১টি মামলাসহ সমগ্র জেলায় প্রায় অর্ধশত মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪ হাজার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে।
তবে এই প্রথম কোনো মামলায় সাবেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকে আসামি করা হলো। মামলায় তিনি ৩নং আসামি। এছাড়া ১নং আসামি শেখ হাসিনার পর ২নং আসামি করা হয়েছে তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানাকে।
মামলার এজহারে উল্লেখ, আন্দোলন দমন করতে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত ১নং থেকে ২০নং আসামি সারাদেশে গণহত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই মোতাবেক তারা কিশোরগঞ্জে যাতে কোনো আন্দোলন হতে না পারে, সেজন্য ২১ থেকে ৪০নং আসামিদের নির্দেশ দেন। নির্দেশ বাস্তবায়নে ৪১ থেকে ১২৪নং আসামিরা শটগান, বন্দুক, পিস্তল, ককটেল, বোমা ও দেশি অস্ত্র এবং অর্থ সরবরাহ করে আন্দোলন দমাতে এবং গণহত্যার নির্দেশ দেন।
গত বছরের ৪ঠা আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে জেলা শহরের স্টেশন রোড এলাকায় মিছিলে আসামিরা হামলা চালান। তারা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের আহত করেন। এ ছাড়া আসামিরা গ্রেনেড, ককটেল ও বোমা নিক্ষেপ করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেন।
মামলার বাদী তহমুল ইসলাম জানান তিনি বিএনপির একজন কর্মী। আন্দোলনে আহতদের তালিকায় তার নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর তিনি এখন কিছুটা সুস্থ হওয়ায় মামলা করেছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, মামলাটি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
