নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: এনসিটিবি কর্তৃক নবম-দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পেছনের প্রচ্ছদ থেকে ‘আদিবাসী’ শব্দ সংবলিত গ্রাফিতি বাতিল করার প্রতিবাদে ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা’র কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’।
রোববার, ১৫ই জানুয়ারি ‘সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা’র এনসিটিবি কার্যলয় ঘেরাও কর্মসূচীতে এ হামলা চালায় ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’।
এ হামলার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে।
পরিলক্ষিত হয়েছে, গত ৫ই আগস্টের পর হঠাৎ করেই সারাদেশে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ছাত্র ও সামাজিক সংগঠন। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্রশিবির এ ধরনের বিভিন্ন সংগঠন দাঁড় করিয়েছে।

সুত্র জানিয়েছে, ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামক সংগঠনটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত সেটেলার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অঞ্চলের ছাত্রদের নিয়ে গঠিত।
একইসাথে এ ছাত্ররা পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ নামে আরেকটি সংগঠনের সাথেও যুক্ত। এ আন্দোলন দমাতে ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’র পোস্টও ফেসবুক গ্রুপে শেয়ার করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি সাদিক কাইয়ুম ও বর্তমান সভাপতি এসএম ফরহাদ, এই দু’জনই পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের সাবেক সভাপতি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি সাদিক কাইয়ুমের শেয়ার করা একটি পোস্টে দেখা যাচ্ছে, হামলায় জড়িত ঢাবি ছাত্র এনামুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন।

ফারহা তাহসিন নামে এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ নামে এক সংগঠন আজকে স্টাম্প দিয়ে আমি কে, তুমি কে, বাঙালি বাঙালি স্লোগান দিয়ে আদিবাসীদের পিটিয়ে মাথা ফাটায় ফেলছে। শিবিরের সভাপতি সাদিক কাইয়ুম, ফরহাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদের প্রেসিডেন্ট ছিলো। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র সংসদ সংগঠন এই ‘স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’ প্ল্যাটফর্মটি চালায়, ওদের পেজ থেকে এই প্ল্যাটফর্মের লাইভ হয়।
‘ইসলামি ছাত্রশিবির’ সন্ত্রাসবাদ কায়েম করতে দশটা নাম দিয়ে দশটা উইং খুলে বসেছে বলে দাবী করেছেন এ শিক্ষার্থী।

গুরুতর আহত আদিবাসী শিক্ষার্থীরা
এদিকে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের দপ্তর সম্পাদক থুইলাপ্রু মারমা স্বাক্ষরিত প্রতিবাদ লিপিতে বলা হয়েছে, এনসিটিবি কর্তৃক নবম-দশম শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পেছনের প্রচ্ছদ থেকে “আদিবাসী” শব্দ সংবলিত গ্রাফিতি বাতিল করার প্রতিবাদে ঢাকায় “সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র জনতা” ব্যানারে আয়োজিত এনসিটিবি কার্যলয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পরিকল্পিতভাবে “স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি” নামক উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর একটি ভূঁইফোড় সংগঠনের হামলায় ১০-১৫ জন আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বৃহত্তর পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)।

পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি অঙ্কন চাকমা ও সাধারণ সম্পাদক অমল ত্রিপুরা সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন তথাকথিত ভূঁইফোড় সংগঠন কিভাবে পাহাড়িসহ দেশের সংখ্যালঘু জাতিসত্তার শিক্ষার্থী-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করতে পারে? আমরা মনে করি এই ঘটনায় পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটলারদের কিছু শিক্ষার্থী ও তাদের পেছনে উগ্র সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী গোষ্ঠির সম্পৃক্ততা রয়েছে। আমরা এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করছি।

নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের
ঢাকার মতো জায়গায় আজকের এই হামলা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি পরিকল্পিত হামলা উল্লেখ করে নেতৃদ্বয় বলেন, তথাকথিত “স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি” নামক উগ্র সাম্প্রদায়িক সংগঠনটির লোকজন গতকাল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা হুমকি দিয়ে আসছে এবং আজ সকাল থেকে তারা ক্রিকেট স্টাম্প ও লাঠিতে জাতীয় পতাকা বেঁধে এনসিটিবি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল। পরবর্তীতে “সংক্ষুব্ধ আদিবাসী ছাত্র-জনতার” ব্যানারে এনসিটিবি ঘেরাও কর্মসূচির মিছিলটি সেখানে গেলে পুলিশের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা করে, যা ন্যাক্কারজনক। এতে অন্তত ১০-১৫ জন আহত হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সেটলার বাঙালিসহ দেশের উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠি “আদিবাসী” ইস্যুকে সামনে এনে পাহাড়ি জনগণ বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জিগির তুলে দেশের অপরাপর মানুষের কাছে জাতিগত বিদ্বেষ সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এর পেছনে রাষ্ট্রীয় কোন সংস্থার লোকজন উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে বলে আমরা মনে করছি।
