‘পর্দার স্বার্থে’ এনআইডিতে নারীর ছবি থাকতে পারবে না, মহিলা আনজুমানের আল্টিমেটাম

‘পর্দার স্বার্থে’ এনআইডিতে নারীর ছবি থাকতে পারবে না, মহিলা আনজুমানের আল্টিমেটাম
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও গোপনীয়তার অধিকারের স্বার্থে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদানের দাবিতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মহিলা আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত নামের একটি সংগঠন।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে সমাবেশ করেছে সংগঠনটি।

আজ বুধবার ১৫ই জানুয়ারি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে তারা এই আল্টিমেটাম দেয়।

‘১৬ বছর যাবত পর্দানশীন নারীদের এনআইডি বঞ্চিত করে মানবাধিকার হরণের প্রতিবাদ’-এ রাজারবাগ মহিলা আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত বিক্ষোভ সমাবেশটির আয়োজন করে। সমাবেশে ৩০-৪০ জন নারী বোরকা পরে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ইসির সামনে হাজির হন।

পরে সংগঠনের তিন নারী সদস্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে তাদের দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

সংগঠনের আহ্বায়ক শারমিন ইয়াসমিন জানান, তিনটি দাবিতে তারা এই কর্মসূচি দিয়েছেন। প্রথমত, গত ১৬ বছর যাবত পর্দানশীন নারীদের মানবাধিকার হরণকারী ইসি কর্মকর্তাদের বিচার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পর্দানশীন নারীদের ধর্মীয় ও প্রাইভেসির অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে এনআইডি দিতে হবে। তৃতীয়ত, পর্দানশীন নারীদের ফিঙ্গারিং বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এসময় সমাবেশে আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব সুমাইয়া আহমাদ মুনা, সদস্য মাশহুরাহ ফিরদাউসিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা দাবি করেন, গত ১৬ বছর ধরে ইসির কতিপয় স্বৈরাচারী কর্মকর্তা শুধুমাত্র মুখচ্ছবির অজুহাতে পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব আটকে রেখেছে, যা এক ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ। এতে পর্দানশীন নারীরা মৌলিক ও নাগরিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে নিদারুণ কষ্টে আছেন।

তারা জানান, গত ১৬ বছর ধরে যারা পর্দানশীন নারীদের মানবাধিকার হরণ করেছে, তাদের বিচার চায় মহিলা আনজুমানের সদস্যরা। তারা তাদের ধর্মীয় অধিকার এবং প্রাইভেসির অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে এনআইডি চায়।

আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এসব দাবি না মানলে দেশব্যাপী ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাঠে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের সদস্যরা।

বক্তারা আরও বলেন, পর্দানশীন মহিলাদের এনআইডি প্রদানে আইনেও কোনো বাধা নেই। বিশেষত, পরিচয় নিবন্ধন আইন ২০১০ এবং ২০২৩-এ পরিচয় শনাক্তে চেহারার ছবির কথা উল্লেখ নাই। এমনকি বায়োমেট্রিক যাচাইয়ে ফেসিয়াল রিকগনিশনকেও বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তারপরও পর্দানশীন নারীদের নাগরিকত্ব বঞ্চিত করে রেখেছিল সাবেক ইসি কর্মকর্তারা। পর্দানশীন নারীরা চান, পর্দার স্বার্থে নতুন ইসি কর্মকর্তারা আর সেই পথে না হাঁটুক।

Visited 125 times, 1 visit(s) today