বিশেষ প্রতিবেদক
সংসদীয় কার্যক্রমের বাইরে দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শনে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। শিক্ষা সফরের মাধ্যমে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য একসঙ্গে চারটি দেশ সফর করছেন। দলের পক্ষ থেকে এই সফরকে ‘শিক্ষা সফর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যক্রম, রাষ্ট্র পরিচালনা, শিক্ষাব্যবস্থা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনই এ সফরের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়া দিয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের ১৭ দিনের এই সফর শুরু হয়। এরপর তাঁরা সিঙ্গাপুর ও ফিলিপাইন সফর করেন। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইন থেকে সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁদের। সেখানে ওমরাহ পালন শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর ও ১ অক্টোবরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।
মালয়েশিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন
সফরের শুরুতে মালয়েশিয়ায় তিন দিন অবস্থান করেন সংসদ সদস্যরা। সেখানে তাঁরা কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন।
এ সময় মালয়েশিয়ার সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও দেশটির রাজনৈতিক দল কেদিলান রাকাইয়াতের আন্তর্জাতিকবিষয়ক ব্যুরোর প্রধান মাসজলি মালিকের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়।
সিঙ্গাপুরে নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি
মালয়েশিয়া সফর শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে যান জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। সেখানে তাঁরা নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি পরিদর্শন করেন এবং একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নেন।
সিঙ্গাপুর কীভাবে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠেছে, দেশটির বর্তমান অবস্থান এবং বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সেখানে আলোচনা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফিলিপাইনে রাজনৈতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সফর
সিঙ্গাপুর সফর শেষে ১৯ সেপ্টেম্বর ফিলিপাইনে পৌঁছান তাঁরা। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
সফরসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনের স্থানীয় সরকারব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের।
সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা
ফিলিপাইন সফর শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে জামায়াতের সংসদ সদস্যদের। সেখানে ওমরাহ পালন করবেন তাঁরা। সৌদি আরব যাওয়ার পথে বাহরাইনে যাত্রাবিরতির পরিকল্পনাও রয়েছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
কেন এই শিক্ষা সফর?
সফরসংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন, দলের অনেক সংসদ সদস্য নতুন করে সংসদীয় দায়িত্বে এসেছেন। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকায় তাঁদের সংসদীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে। তাই বিভিন্ন দেশের সংসদব্যবস্থা, নেতৃত্ব, রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।
সফরকারী দলের সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, সংসদীয় আচার-আচরণ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি মুসলিম দেশগুলো কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, তাদের শিক্ষাব্যবস্থা ও অবকাঠামো কীভাবে গড়ে উঠছে—এসব সরাসরি দেখার উদ্দেশ্যেই তাঁরা সফর করছেন।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া সেলের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি দলের পরিকল্পনার অংশ এবং এমপিদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে।
সফরে রয়েছেন ৩৪ সংসদ সদস্য
সফরকারী ৩৪ জন সংসদ সদস্যের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনের মীর আহমদ বিন কাসেম, খুলনা-৬ আসনের মো. আবুল কালাম আজাদ, পিরোজপুর-১ আসনের মাসুদ সাঈদী, শেরপুর-১ আসনের মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদসহ বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরা রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৪ জন এমপির মধ্যে ২৫ থেকে ২৬ জন তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সফরে গেছেন। তাঁদের সঙ্গে জামায়াতের আরও কয়েকজন নেতা, পরিবারের সদস্য ও একজন লেখকও রয়েছেন।
ডিসেম্বরে ইউরোপ সফরের পরিকল্পনা
জামায়াত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে কালবেলা জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এক বা একাধিক প্রতিনিধি দলে ভাগ হয়ে দলের সংসদ সদস্যরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ সফর করতে পারেন।
