বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের জন্য এশিয়ান গেমস নিয়ে এসেছে এমন এক উপলক্ষ, ঠাসা আন্তর্জাতিক সূচি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ব্যস্ততার মাঝে যা সচরাচর মেলে না — দেশের জন্য সোনা জয়ের অনন্য সুযোগ।
বুধবার দল রওনা হওয়ার আগে অধিনায়ক লিটন দাসের কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল সেই রোমাঞ্চ ও দায়িত্ববোধ। জাপানে পুরুষ টি-টোয়েন্টি অভিযান শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়কের চোখ এখন শুধুই ফাইনালে।
দলকে ঘিরে প্রত্যাশার কথা জানাতে গিয়ে গণমাধ্যমকে লিটন বলেন, ‘প্রত্যাশা তো সব সময়ই থাকবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ তো প্রতিনিয়ত হতেই থাকে, কিন্তু এশিয়ান গেমস একটা বিরল সুযোগ। স্বপ্নের এই সাফল্য ছোঁয়ার জন্য সব খেলোয়াড়ই দারুণ রোমাঞ্চিত।’
এর আগে ২০১০ সালে গুয়াংজুতে এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল বাংলাদেশ। অবশ্য সেবার টেস্ট খেলা বড় দলগুলো তাদের সেরা দল পাঠায়নি। তবে এবার চিত্রটা একেবারেই ভিন্ন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দলগুলো শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামছে। প্রতিপক্ষ নিয়ে অতিরিক্ত না ভেবে নিজেদের পারফরম্যান্সেই নজর রাখছে বাংলাদেশ।
লক্ষ্যের কথা পরিষ্কার করেই জানিয়ে দিলেন লিটন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ফাইনালে ওঠা এবং সোনা জেতা।’
২৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে পুরুষদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর কোয়ার্টার ফাইনালে মাঠে নামবে টাইগাররা।
লিটনের মতে, এই টুর্নামেন্টটি আরও বড় কোনো মঞ্চে পৌঁছানোর মাধ্যমও হতে পারে। ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে ফিরছে ক্রিকেট, যেখানে মাত্র ছয়টি দল অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। ফলে কোয়ালিফাই করার লড়াইটা হবে অত্যন্ত কঠিন।
অলিম্পিক নিয়ে রোমাঞ্চ লুকিয়ে রাখেননি লিটন, ‘অলিম্পিকে কে না খেলতে চাইবে? তবে আমাদের এই মুহূর্তের মূল মনোযোগ এশিয়ান গেমসে। ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে ফাইনাল পর্যন্ত যেতে চাই।’
জাপানের মাটিতে এই অভিযান কেবল ক্রিকেটের জন্যই নয়, পুরো দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই ইতিবাচক হবে বলে মনে করেন তিনি।
‘খেলার মাধ্যমে দেশের জন্য অর্থবহ কিছু করা ভাগ্যের বিষয়। আমরা যদি এখানে ভালো করতে পারি এবং অলিম্পিকের টিকিট পাওয়ার পথ সহজ করতে পারি, তবে তা বাংলাদেশের অন্য সব খেলার জন্যও সুফল নিয়ে আসবে,’ যোগ করেন লিটন।
