সংবাদ প্রতিবেদন:
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের একটি কার্যালয় চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ফলকার টুর্কের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানান সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ।
আজ মঙ্গলবার ২৯শে অক্টোবর, ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শারমীন এস মুরশিদ জানান, জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয় চালু হলে আমাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো সরাসরি তদন্তের সুযোগ পাওয়া যাবে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফলকার টুর্ক বর্তমানে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমন্ত্রণে তিনি ঢাকায় এসেছেন। সফরের প্রথম দিনেই তিনি সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি কর্মশালায় অংশ নেন।
জানা গেছে, ঢাকার কার্যালয়টি হলে বাংলাদেশ ২৭ তম দেশ হিসেবে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের দেশীয় কার্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, চাদসহ ১৬টি দেশে এ ধরনের কার্যালয় রয়েছে।
উপদেষ্টা শারমীন মুরশিদ বলেন, এই কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই কাজ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা নাগরিক সমাজ থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরলে আমাদের ওপর নানা ধরনের চাপ আসে। জাতিসংঘের এই কার্যালয় আমাদের পাশে থাকবে, যা আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে।
আরেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে এটি হবে আমাদের জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।
ঢাকায় কার্যালয় চালুর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো রাজনৈতিক প্রভাব মুক্তভাবে তদন্তের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এতে বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমর্থন আরও জোরালো হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন দেখার বিষয়, জাতিসংঘের এই কার্যালয় কত দ্রুত চালু হয় এবং বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রত্যাশা পূরণে কতটা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারে।
