জিয়া পরিবারের রাজনীতি (১ম পর্ব) || বিএনপির রাজনীতিতে কোণঠাসা আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার

জিয়া পরিবারের রাজনীতি (১ম পর্ব) || বিএনপির রাজনীতিতে কোণঠাসা আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের অবস্থান ক্রমেই প্রান্তিক হয়ে উঠছে। দলটির নেতৃত্ব কাঠামো, রাজনৈতিক কর্মসূচি কিংবা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কোকো পরিবারের কোনো দৃশ্যমান ভূমিকা নেই।

তথ্য-উপাত্ত ও সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির রাজনীতিতে তাদের কার্যত কোণঠাসা করে রাখা হয়েছে।

খালেদা জিয়ার দুই পুত্রের মধ্যে বড় ছেলে তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের সর্বোচ্চ ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অপরদিকে, ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার বিএনপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে প্রায় অদৃশ্য।

দেড় যুগের সংকটে পাশে থাকা পরিবার

আওয়ামী লীগের টানা দেড় যুগের শাসনামলে খালেদা জিয়ার দুর্দিনে আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার তাঁর পাশে ছিল—এ কথা দলীয় ও পারিবারিক সূত্রগুলো স্বীকার করে। তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসনে থাকায় দীর্ঘ সময় সরাসরি খালেদা জিয়ার সঙ্গে থাকতে পারেননি। সে সময় কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান নিয়মিতভাবে খালেদা জিয়ার শারীরিক সেবা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত দেখভাল ও পারিবারিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অবদান বিএনপির ভেতরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। কোকোর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারকে কেন্দ্র করে দলীয় পর্যায়ে পুনর্বাসন বা দায়িত্ব বণ্টনের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

নেতৃত্ব কাঠামোতে অনুপস্থিতি

বিএনপির বর্তমান সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি তারেক রহমানকেন্দ্রিক। তাঁর চারপাশে গড়ে ওঠা নেতৃত্ব বলয়ে কোকো পরিবারের কোনো সদস্য নেই। দলীয় উপদেষ্টা পরিষদ, গুরুত্বপূর্ণ কমিটি কিংবা রাজনৈতিক বার্তাবাহক হিসেবেও তাঁদের নাম উঠে আসে না।

বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখন দল পরিচালিত হচ্ছে একক নেতৃত্ব কাঠামোয়। এখানে পারিবারিক অবদান নয়, রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণই মুখ্য।”

গণমাধ্যম কাভারেজে স্পষ্ট বৈষম্য

বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমের কাভারেজ বিশ্লেষণে। প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক তৎপরতা, পারিবারিক উপস্থিতি ও ভূমিকা নিয়মিতভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরিতে তারেক রহমানের পরিবারের উল্লেখ থাকলেও আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারের নাম বা ভূমিকা সেখানে প্রায় অনুপস্থিত।

মিডিয়া বিশ্লেষকদের মতে, এই কাভারেজ আসলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার বাস্তব চিত্রই তুলে ধরছে। দলের যে অংশ সিদ্ধান্ত ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, গণমাধ্যমের ফোকাসও সেখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

একজন জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, “গণমাধ্যম সাধারণত ক্ষমতার কেন্দ্রকে অনুসরণ করে। কোকো পরিবার যেহেতু বিএনপির বর্তমান ক্ষমতার বলয়ে নেই, তাই তারা কাভারেজের বাইরেই থেকে যাচ্ছে।”

নীরবতা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

কোকো পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্য রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই। গণমাধ্যমে বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ কিংবা দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করার উদ্যোগও খুব কম দেখা গেছে। ফলে দলীয় রাজনীতি ও গণমাধ্যম—উভয় ক্ষেত্রেই তারা নীরব ও প্রান্তিক অবস্থানে রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, বিএনপির রাজনীতিতে আরাফাত রহমান কোকোর পরিবার বর্তমানে এমন এক অবস্থানে রয়েছে, যেখানে অতীতের ত্যাগ ও পারিবারিক ভূমিকা স্বীকৃতি পাচ্ছে না, আর বর্তমান ক্ষমতার কাঠামোতেও তাদের কোনো জায়গা তৈরি হয়নি। এই কোণঠাসা অবস্থান আদৌ বদলাবে কি না—সে প্রশ্ন এখনো উন্মুক্ত।

চলবে…

Visited 215 times, 1 visit(s) today