নিজস্ব প্রতিবেদক
শেখ হাসিনা সরকারবিরোধী আন্দোলনে ৯ দফার বিবৃতিদানের মাধ্যমে আবদুল হান্নান মাসউদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে লাইমলাইটে আসেন।
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার প্রান্তিক এলাকার গরিব মাদ্রাসা শিক্ষকের ছেলে আব্দুল হান্নান মাসউদ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তন হলে পরিবর্তিত হয়ে যায় তার আর্থ-সামাজিক অবস্থানও।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের আগে গ্রামের সবচেয়ে ভাঙাচোরা বাড়ি ছিল তার।
তিনি টকশো’তে নিজেও জানিয়েছেন, তার গ্রামের বাড়ি ছিল টিনের ঝুপড়ি, আর পিতার মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে পাওয়া পেনশন তুলতে তাকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হতো, যা দিতে পারেননি।
কিন্তু ৫ আগস্টের পরে ঢাকা শহরে মব ও চাঁদাবাজি করে অবৈধপথে আয়ের পথ বেছে নেন মাসউদ।
২০২৫ সালে এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল মব করে চাঁদাবাজির ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় আটক মব সন্ত্রাসীদের পুলিশ হেফাজত থেকে ছাড়ানোয়। হান্নান মাসউদ নিজে ধানমন্ডি থানায় গিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন।
প্রথম স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের পূর্ণ টাকাও দিতে পারেননি মাসউদ।
সেই সময় তার প্রথম স্ত্রী থেকে বিচ্ছেদ ঘটে। গ্রাম্য সালিশে বিচ্ছেদের সময় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং বাকি ১০ হাজার টাকার জন্য মাফ চেয়েছেন। এই তথ্য স্থানীয় প্রতিবেশীরা নিশ্চিত করেছেন।
দু’বছরের মধ্যে তার আর্থিক অবস্থা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। ত্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাখিল করা হলফনামায় মাসউদ তার সম্পত্তি ৯৮ লাখ টাকার হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি নোয়াখালী-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ঘোষণা করেছেন।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী তার ব্যাংকে নগদ ২ হাজার টাকা, পিতার নামে প্রায় ২ লাখ টাকা, নগদ ও গহনার হিসেবে মোট সম্পদ প্রায় ৪৬.৮৫ লাখ টাকা।
কিছুদিন আগে ভোটারদের সাথে সরাসরি মতবিনিময় এক অনুষ্ঠানে তার আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন করলে, তার জবাব হান্নান মাসউদ দিয়েছিলেন ইংলিশে, বলেছিলেন তিনি সবচেয়ে বেশি টিউশনি পড়াতেন। সে সময়ে তিনি মাসে ৮০ হাজার টাকা করে শুধু ছাত্র পড়িয়ে আয় করতেন বলে দাবি করেছিলেন হান্নান মাসউদ।
উক্ত বক্তব্যের এক মাসের মাথাতেই হলফনামায় মাসউদ নিজেকে বর্তমানে ব্যবসায়ী পেশায় নিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করেন এবং দামি ফ্ল্যাট ও গাড়িতে বসবাস করছেন। তিনি এনসিপি দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে রাজনীতিতেও সক্রিয়।
