টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: প্রমাণ ছাড়াই বিচার শুরু, প্রশ্নবিদ্ধ দুদক

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ: প্রমাণ ছাড়াই বিচার শুরু, প্রশ্নবিদ্ধ দুদক
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা,  ১১ই আগস্ট ২০২৫।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিচার শুরু করতে যাচ্ছে, কিন্তু দুদুক এখনো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করেনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, টিউলিপ তার খালা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে তার মা শেখ রেহানা এবং ভাই-বোনদের জন্য ঢাকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পূর্বাচল নিউ টাউনের প্রস্তাবিত কূটনৈতিক জোনে জমি বরাদ্দ করিয়েছেন। তবে, এই অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২২ সালে শেখ হাসিনার সরকার পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে তার পরিবারের সদস্যদের জন্য জমি বরাদ্দ করেছিল, যা নিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শেখ হাসিনার পতনের পর সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, টিউলিপের মা শেখ রেহানা এবং তার দুই ভাই-বোনের নামে জমি বরাদ্দ হলেও টিউলিপ নিজে কোনো জমি পাননি।

এটি প্রাথমিকভাবে তাকে এই দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত রাখলেও, দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। দুদকের প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) অনুযায়ী, “টিউলিপ সিদ্দিক তার সরাসরি প্রভাব ও বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের প্রকল্পে তার পরিবারের সদস্যদের জন্য জমি বরাদ্দের ব্যবস্থা করতে বাধ্য করেছেন।” এছাড়া, একজন দুদক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, “ব্রিটিশ সংসদ সদস্য হিসেবে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক তার বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রভাবিত করে তার মা শেখ রেহানা ও ভাই-বোনদের জন্য জমি বরাদ্দ করিয়েছেন।”

অভিযোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন

এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। টিউলিপের মা শেখ রেহানা, যিনি শেখ হাসিনার বোন, বাংলাদেশে অনেক বেশি প্রভাবশালী এবং দেশে প্রায়শই উপস্থিত ছিলেন। তিনিই যদি কাউকে প্রভাবিত করতেন, তবে তা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বা শেখ হাসিনার কাছে হওয়ার কথা। টিউলিপের এই ভূমিকা পালন করা অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দুদকের কাছে যদি টিউলিপের সরাসরি যোগাযোগ বা প্রভাবের কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ, যেমন চিঠি বা যোগাযোগের নথি, না থাকে, তবে এই অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে জমি বরাদ্দ নিয়ে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ অযৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে। টিউলিপ, যিনি যুক্তরাজ্যে একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, তার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় এমন প্রভাব খাটানোর সম্ভাবনা কম। এই অভিযোগকে অনেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছেন, বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতার প্রেক্ষিতে।

টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হয়নি। আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বিচার প্রক্রিয়া এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে, প্রমাণের অভাবে এই মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুদকের এই পদক্ষেপ দেশের বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today