১২০ বার পেছাল তারিখ! এখন বাধা কোথায়- প্রশ্ন সাগর-রুনির পরিবারের

১২০ বার পেছাল তারিখ! এখন বাধা কোথায়- প্রশ্ন সাগর-রুনির পরিবারের
শেয়ার করুন

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। আগামী ১৪ই সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১২০ বার পেছানো হয়েছে।

আজ ১১ই আগস্ট, সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমানের আদালত এ দিন ধার্য করেন। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় আদালত নতুন এদিন ধার্য করেন।

২০১২ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। ওই সময় বাসায় ছিলেন তাদের সাড়ে চার বছরের ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ। সাগর বেসরকারি টেলিভিশন মাছরাঙা ও রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন রুনির ভাই নওশের আলম। মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে তদন্তভার দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগকে। ৬২ দিনের মাথায় ডিবি তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র‌্যাবকে।

দীর্ঘ ১২ বছর তদন্ত চালানোর পর গত ৩০শে সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতের নির্দেশে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্ত থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। উচ্চ আদালত সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন।

ইউনূস সরকার গত ২৩শে অক্টোবর উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চার সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করে। পিবিআই প্রধানকে এর আহ্বায়ক করা হয়েছে।

মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, এবং সাগর-রুনির বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ। আরও আছেন তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। এর মধ্যে তানভীর ও পলাশ জামিনে রয়েছেন, বাকিরা কারাগারে।

মামলাটির তদন্ত শেষ না হওয়া এবং বারবার প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানোর কারণে এ হত্যা মামলার সুরাহা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ময়নাতদন্তসহ তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের পরিবার ও সহকর্মীরা।

বারবার তারিখ পেছানো নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছে উভয় পরিবারের সদস্যরা। আগের সরকারের ‘গড়িমসি’ ছিল কিন্তু এখন কেন এভাবে বারবার পেছাচ্ছে? এখন বাধা কোথায়? ন্যায়বিচার দাবি করে পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ জানান।

Visited 14 times, 1 visit(s) today