নিজস্ব প্রতিবেদক
স্কুলপড়ুয়া কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় বগুড়ায় শাকিল আহমেদ (৪৫) নামে এক রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিতু ইসলাম (৪৩)। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাকেসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বিকেলে বগুড়া শহরের ফুলবাড়ী এলাকার করতোয়া নদীর ঘাটে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় রিকশাচালক শাকিলকে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, শাকিল শিববাটি এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। তার কিশোরী মেয়েকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু মেয়ের বয়স কম ও প্রস্তাবদাতা বয়স্ক হওয়ায় শাকিল তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ বিষয়কে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুরে ১০-১৫ জন যুবক শাকিলকে জোর করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ফুলবাড়ী এলাকায় মারধর করে ফেলে রেখে যায়।
এই ঘটনায় নিহত শাকিলের স্ত্রী মালেকা বেগম বাদী হয়ে রোববার বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জিতু ইসলামকে।
এ ছাড়া আরও ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে মামলায়।
পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিতু ইসলামসহ তার দুই সহযোগী শফিকুল হাসান (২৮) ও মতিউর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি আসামিরা এখনো পলাতক।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে বিএনপি নেতারা সক্রিয় হন।
বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সরকার মুকুল জানান, শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে জিতু ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়। রাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানায়।
নিহত শাকিল আহমেদের পরিবার বিচারের দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
