দশ মাসেই যুবলীগ থেকে বিএনপি ও গণঅধিকারে ডিগবাজি দিয়ে এনসিপির নেতা!

দশ মাসেই যুবলীগ থেকে বিএনপি ও গণঅধিকারে ডিগবাজি দিয়ে এনসিপির নেতা!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক বছর না পেরোতেই তিনটি ভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আলোচনায় এসেছেন মাজহারুল ইসলাম মিন্টু।

যুবলীগের সহসভাপতি হিসেবে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে তিনি গত ১০ মাসে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপির অঙ্গসংগঠন ঘুরে এখন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে গিয়ে ঠেকেছেন।

সর্বশেষ গতকাল এনসিপির কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, মাজহারুল ইসলাম মিন্টুকে মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী পদে মনোনীত করা হয়েছে। ঘোষণাটি দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

তার এমন ডিগবাজির ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।

জানা গেছে, গত বছরের ২২শে নভেম্বর তিনি গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা কমিটির এক নম্বর সদস্য হন। এরপর চলতি বছরের ১৮ই ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস)-এর জামালপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক হন। চার মাসের মাথায় এখন এনসিপির নেতৃত্বে চলে এসেছেন তিনি।

তবে আগের সংগঠনগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা।

চরপাকেরদহ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান জানান, “মিন্টু এখনো আমাদের সহসভাপতি। পদত্যাগ করেননি। তার কাছ থেকে কোনো পদত্যাগপত্র আমরা পাইনি।”

গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা আহ্বায়ক হামিদুর রহমান জানান, “পছন্দমতো পদ না পাওয়ায় মিন্টু মৌখিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন।”

অন্যদিকে জেলা জিসাসের আহ্বায়ক রুবেল আহমেদ বলেছেন, “মিন্টু পদত্যাগ করেননি। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি সংগঠনের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন। সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম আহ্বায়ক হিফজুর রহমান বকুল বলেন, “মিন্টু মনে করছেন এনসিপির সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটে কাজ করা উচিত। তাই তিনি আমাদের দলে যুক্ত হয়েছেন।”

তবে নিজে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মাজহারুল ইসলাম মিন্টু দাবি করেছেন, “যুবলীগ বা গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আমার বর্তমানে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কে বা কারা নাম দিয়েছে জানি না। তবে এখনো আমি জিসাসের সঙ্গে যুক্ত আছি।”

মাত্র ১০ মাসে তিনটি ভিন্ন আদর্শের রাজনৈতিক দলে সক্রিয়ভাবে পদপ্রাপ্ত হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘ডিগবাজির’ নজির স্থাপন করলেন মাজহারুল ইসলাম মিন্টু।

Visited 10 times, 1 visit(s) today