আলি শরিয়তি উবাচ
ভূমিকাঃ
বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও দৈনিক সংবাদের সম্পাদক প্রয়াত জহুর হোসেন চৌধুরী সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের আমলে ‘আতা খান ভাতা খান’ শিরোনামে পত্রিকায় কলাম লিখেছিলেন। কুখ্যাত স্বাধীনতাবিরোধী আতাউদ্দিন খান তখন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রীকে নিয়ে এমন দৃষ্টতার ফলাফল হিসেবে বৃদ্ধ বয়সে জহুর হোসেন চৌধুরীকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। জহুর হোসেন চৌধুরী সামরিক শাসনামলে অন্তত লিখে জেলে গিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান অ-সামরিক শাসনামলে কিছু লেখার দরকার নেই, টকশোতে কিছু বলারও দরকার নেই; তবুও জেলের ভাতের অভাব হচ্ছে না। একাধিক হত্যা মামলার আসামী হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের, জেলে যেতে হচ্ছে এবং নানারকম হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
পত্রিকা ও টিভি স্টেশন থেকে চাকরিচ্যুতির ঘটনা এখন পানিভাতে পরিণত হয়েছে। যারা বিগত ১৬ বছর রাজার হালে চাকরি করেছেন, এখন তারাই বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ কর্তা হয়ে বসেছেন, ঝেটিয়ে বিদায় করেছেন সাবেক শীর্ষ কর্তাদের। যেন সাবেকদের বিদায় না করলে নতুনদের বড় পদে বসা অসম্ভব ছিল। সাধারণ প্রতিবেদক থেকে সম্পাদক, রিপোর্টার থেকে বার্তা প্রধান হয়ে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা সেজেছেন অনেকেই। এসব চেয়ারে বসার আগে তারা নিজেদের বঞ্চিত কিংবা বিপ্লবী বলে জাহির করেছেন। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পেশাদার, অভিজ্ঞ ও সৎ সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুত করে তারা চেয়ারগুলো দখল করেছে। আর এই দখলবাজেরা বিগত সরকারের আমলেও বহাল তবিয়তে চাকরি করেছেন, সাংবাদিকতা করেছেন। এমন মিডিয়া দখল কে কবে দেখেছে?
৫ আগস্টের আগে ও পরে মিলিয়ে ৯জন সাংবাদিক হত্যার শিকার এবং ৪ শতাধিক সাংবাদিক বিভিন্ন আক্রমণে আহত হয়েছে। আর ইউনূস জমানায় ৩৮ জন সাংবাদিক গ্রেফতার হয়েছে, ৩৮৯জনের নামে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা করা হয়েছে, ঢাকাসহ সারাদেশের সহস্রাধিক সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, ১৬৮ জনের প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করেছে, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সারাদেশের প্রেসক্লাব থেকে ৯২জনকে বহিস্কার ও সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে, অন্তত ৪৭ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, শতাধিক সাংবাদিকের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং আরও নানারকম হয়রানি তো আছেই।
অনেকেই হয়ত বলবেন চ্যানেল ওয়ান টিভি, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভি, দৈনিক আমার দেশ, দৈনিক দিনকাল; এগুলো বন্ধ হয়েছিল আওয়ামী লীগ আমলে। কথা সত্য, কিন্তু দুটি বাদে অন্যগুলো বন্ধের পেছনের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আওয়ামী লীগ সরকারের ইচ্ছায় সাকূল্যে দুটি মিডিয়া, যথা দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করা হয়েছিল। এটা করা হয়েছিল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মিথ্যা ‘বিদ্বেষ ও গুজব ছড়ানো এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার’ অভিযোগে। ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে টিভি দুটি হাজার হাজার হত্যার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছিল। এসব যে মিথ্যাচার ছিল তা পরে হেফাজতে ইসলাম এবং অধিকার নামক এনজিও এর কথাতেও সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিস্তারিত জানতে প্রথম আলোর এই লিংকে https://shorturl.at/W2DQA যেতে পারেন।
২০২৩ সালে দৈনিক দিনকাল বন্ধের কারণ ছিল সম্পূর্ণ আইনগত। কারণ আইন অনুযায়ী কোন পত্রিকার প্রকাশক যদি একটানা ছয় মাসের বেশি দেশের বাইরে থাকেন তাহলে প্রকাশনার দায়িত্ব অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করতে হয়। কিন্তু দিনকালের প্রকাশক তারেক রহমান ২০০৮ সাল থেকে দেশের বাইরে থাকায় এবং অন্য কাউকে প্রকাশনার দায়িত্ব না দেয়ায় এটি বন্ধ করতে সরকার বাধ্য ছিল। বিস্তারিত জানতে বিবিসি বাংলার এই লিংকে https://shorturl.at/A6JFQ যেতে পারেন।
চ্যানেল ওয়ানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছিল। আইনের লঙ্ঘনের ঘটনায় বন্ধ হয়েছিল চ্যানেলটি। চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ আমদানি করা সম্প্রচার যন্ত্রপাতি ব্যাংকে বন্ধক রেখে ঋণ নিয়েছিল এবং সে ঋণ শোধ করতে না পারায় ব্যাংক যন্ত্রপাতি নিলামে তোলে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠান তা কিনে নিয়েছিল। যা বিটিআরসির অগোচরে ও গোপনে সম্পন্ন করেছিল চ্যানেল ওয়ান কর্তৃপক্ষ এবং এটি সম্পূর্ণ বিধান লঙ্ঘন। যার ফলে চ্যানেল ওয়ান বন্ধ হয়েছিল। বিস্তারিত জানতে বিবিসি বাংলার এই লিংকে https://shorturl.at/WKHqn যেতে পারেন। এছাড়াও মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। যে কারণে গত দোষ মাসেও চেষ্টা করে ফয়সালা করতে পারেনি এবং অন-এয়ারে আসতে পারেনি।
২০১৩ সালের মে মাসে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার প্রেস সিলগালা করেছিল সরকার। কিন্তু পত্রিকা বন্ধ করেছি বা ডিক্লারেশন বাতিলও করেনি। অথচ অপপ্রচার চালানো হয় যে, সরকার পত্রিকা বন্ধ করেছিল, যা পুরোপুরি মিথ্যা। আমার দেশ কর্তৃপক্ষ নিজেরাই পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ রেখেছিল। ৫ আগস্টের পরে দ্রুতই প্রকাশনায় যেতে পারার অন্যতম কারণ এটাই যে, পত্রিকার প্রকাশনা বাতিল বা নিষিদ্ধ ছিল না।
বন্ধ হওয়া টিভি চ্যানেলের সংবাদকর্মীরা গেলেন কোথায়ঃ
তিনটি টিভি চ্যানেল, যথা- চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি, ইসলামিক টিভির সাংবাদিকেরা কি বেকার ছিলেন? এগুলো প্রায় এক যুগ বা তারও বেশি সময়কাল বন্ধ ছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা নতুন নতুন মিডিয়া হাউজগুলোতে ভালো ভালো দায়িত্বে কাজ করেছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ১০টি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ আমলে ৩৩টি টিভি চ্যানেলের অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ৩৩টির মধ্যে সবগুলো চালু হয়নি, কিন্তু অধিকাংশই চালু হয়েছে। এসব চ্যানেলে নিশ্চয়ই সব ফ্রেশার বা একেবারে নতুন সংবাদকর্মী নিয়োগ দেয়নি, পুরানো অভিজ্ঞদের প্রাধান্য দিয়েছে। আর এই অভিজ্ঞদের বিরাট অংশই এসেছিল চ্যানেল ওয়ান, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি থেকে। কারও নামোল্লেখ করছি না, তবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আগত অনেকেই আওয়ামী লীগ বিট ও পিএম বিটের প্রভাবশালী সাংবাদিক ছিলেন। চ্যানেলগুলোর হর্তাকর্তাও হয়েছিলেন কেউ কেউ। পেশাদারিত্ব কিংবা তেলবাজি, যেভাবেই হোক সবাই জায়গা করে নিয়েছিল। সেই অর্থে কেউ বেকার ছিল না। এবং এই মিডিয়া হাউজগুলোও কেউ দখল করেনি কিংবা নিয়ন্ত্রণ কব্জায় নেয়নি। যা ৫ আগস্টের পরে আমরা নতুন বন্দোবস্তের বাংলাদেশে দেখেছি।
বন্ধ হওয়া পত্রিকাগুলোর সংবাদকর্মীরা গেলেন কোথায়ঃ
দুটি পত্রিকা, যথা- দৈনিক আমার দেশ ও দৈনিক দিনকালের সাংবাদিকেরা কি বেকার ছিলেন? দৈনিক দিনকাল মাত্র বছর খানেক প্রকাশের বাইরে ছিল। আর দৈনিক আমার দেশ প্রায় এক দশক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল।
দৈনিক দিনকালের কারও কোথাও যোগ দিতে হয়নি। কারণ এটি বিএনপির দলীয় পত্রিকা। পত্রিকার সাংবাদিকেরাই বিএনপির বিভিন্ন ফ্রন্টে সাংবাদিক পরিচয়ে কাজ করেছে। বেতন ভাতা বোনাসেরও সমস্যা হয়নি। তাছাড়া দৈনিক দিনকাল মূলত দলীয় সাংবাদিক ও কর্মীদের আশ্রয় প্রশ্রয়ের ঠিকানা ছিল।
বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দেশে গণমাধ্যমের বাম্পার ফলন হয়েছে। টিভি চ্যানেল ছাড়াও অসংখ্য দৈনিক পত্রিকা বেরিয়েছে। আর অনলাইন নিউজ পোর্টাল তো প্রায় ঘরে ঘরে জন্ম নিয়েছিল। সাথে যুক্ত হয়েছিল আইপিটিভি। ফলে সাংবাদিকতার প্রতি মিনিমাম আগ্রহ ছিল এবং কিছু অভিজ্ঞতা ছিল, এরকম কারও বেকার থাকার সুযোগ ছিল না।
ইউনূস জমানায় প্রাইজ-পোস্টিংপ্রাপ্তদের তৎকালীন অবস্থানঃ
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ, সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি, সহকারী প্রেস সচিব নাঈম আলী, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার; বিটিভির ডিজি মো. মাহবুবুল আলম, পিআইবির ডিজি ফারুক ওয়াসিফ, বাসসের এমডি মাহবুব মোর্শেদ, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম আব্দুল্লাহ;
মেক্সিকোতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারি, ওয়াশিংটনে প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা, লন্ডনে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন মজুমদার, দিল্লিতে নিযুক্ত প্রেস মিনিস্টার ফয়সাল মাহমুদ, কলকাতা উপ-হাইকমিশনে নিযুক্ত দ্বিতীয় সচিব তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (তারিক চয়ন);
এদের কেউ কখনও চাকরিচ্যুতি বা মামলার আসামী দূরের কথা মামলার নামই শোনেনি। মনির হায়দার ২০১২ সালের দিকে আমেরিকা চলে গিয়েছিল তাঁর অটিজমে আক্রান্ত সন্তানের চিকিৎসা ও অনুকূল পরিবেশের প্রয়োজনে, কিন্তু চাকরিচ্যুতি কিংবা মামলার ঘটনা ছিল না। এদের কেউ কখনও চাকরিচ্যুতি বা মামলার আসামী দূরের কথা মামলার নামই শোনেনি। কেউ কেউ সত্য মিথ্যা মিলিয়ে টকশোতে বা কলাম লিখে নিয়মিত সরকারের পিন্ডি চপকিয়েছেন।
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনঃ
গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, সদস্য শামসুল হক জাহিদ, সৈয়দ আবদাল আহমদ, ফাহিম আহমেদ, জিমি আমির, মোস্তফা সবুজ, টিটু দত্ত গুপ্ত; এরা কেউ কখনও চাকরিচ্যুত হয়নি। বরং তাদের কেউ কেউ শিবিরের রাজনীতি করেও সকল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দাওয়াত পেয়েছেন ।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত সাংবাদিকঃ
বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আলদীন (ইত্তেফাক), কর্মসংস্থান ব্যাংকের পরিচালক তালুকদার সালাহউদ্দিন আহমাদ (এসএ টিভি), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার কোম্পানি লি (ওজোপাডিকো) এর পরিচালক রফিউল ইসলাম (খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক), পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর পরিচালনা বোর্ডের সদস্য মো: খাজা মাঈন উদ্দিন (প্রথম আলো), সালেহ উদ্দিন (ইত্তেফাক), মো: জিয়াউর রহমান (ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস), শাহনাজ সারমিন রিনভী (বাংলাভিশন টিভি); কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের গভর্নিং বডির সদস্য এহসান মাহমুদ (সমকাল), পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ডা. ম রমিজউদ্দিন চৌধুরী (পূর্বকোণ), তালাত মামুন (চ্যানেল ২৪), ওবায়দুর রহমান শাহীন (বিএফইউজে), সরদার ফরিদ আহমেদ (বিএফইউজে), তানভীর চৌধুরী (আল-জাজিরা), ইফতেখার মাহমুদ (প্রথম আলো);
এই নামগুলোর মধ্যে একমাত্র এহসান মাহমুদ একবার দৈনিক সমকাল থেকে একটি নিউজকে কেন্দ্র করে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। সেটাও বিভাগীয় সম্পাদক ফারুক ওয়াসিফের ইচ্ছায় এবং ফারুক ওয়াসিফ দায়িত্ব অস্বীকার করায়। কিন্তু সাথে সাথেই মানবজমিনে এবং পরে নেত্র নিউজে যোগ দেন। এছাড়া আর কারও চাকরিতে সমস্যা হয়নি। বরং ইউনূস জমানায় চ্যানেল ২৪ এর বার্তা প্রধান তালাত মামুন কিছুদিনের জন্য ওএসডি হয়েছিলেন।
এছাড়া কেউ কখনও চাকরিচ্যুতির শিকার হয়নি। আর মামলার আসামী হবার প্রশ্নই আসে না।
সমন্বয়কদের সমন্বয়ক সাংবাদিক এবং কতিপয় প্রতাপশালী(!) মিডিয়া ব্যক্তিত্ব/ সাংবাদিকঃ
শফিকুল আলম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডেইলি স্টার বাংলার গোলাম মোর্তোজা, বণিক বার্তার দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, নেত্র নিউজের ফয়সাল মাহমুদ, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, রোজিনা ইসলাম, সিমু নাসের, রাহীদ এজাজ ও আলতাফ শাওনেওয়াজ নয়ন, দেশ রূপান্তরের মাহবুব মোর্শেদ, শিমুল সালাহউদ্দিন ও সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ, সমকালের ফারুক ওয়াসিফ, তাসনিম মহসিন মিশু ও এহসান মাহমুদ, চ্যানেল ২৪ এর তালাত মামুন, আসিফ, মোর্শেদ হাসিব, মানজুর আল মতিন ও ফারাবী হাফিজ, বিবিসির আকবর হোসেন মজুমদার ও মুকিমুল আহসান হিমেল, আল-জাজিরার তানভীর চৌধুরী, ডেইলি স্টারের জিনা তাজরীন, মানবজমিনের মিজানুর রহমান খান, ডেইলি স্টারের জিনা তাজরীন, ফ্রিল্যান্সার জিমি আমির ও সালাহউদ্দিন শুভ্র;
প্রবাসীদের মধ্যে খালেদ মুহিউদ্দিন, সাহেদ আলম, তাসনীম খলিল, জাওয়াদ নির্ঝর, কনক সারোয়ার, ইলিয়াস হোসেন, জুলকারনাইন সায়ের সামি, নাজমুস সাকিব;
এছাড়াও মোস্তফা ফিরোজ দীপু, আশরাফ কায়সার, ডা. আব্দুন নূর তুষার, আনিস আলমগীর, হাসনাইন খুরশিদ শুচি, দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের জাহিদ নেওয়াজ খান জুয়েল, সাম্প্রতিক দেশকালের ইলিয়াস উদ্দিন পলাশ, কলামিস্ট ও তাজউদ্দীন আহমদ পাঠচক্রের শুভ কিবরিয়া, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মুকতাদির রশিদ রোমিও;
এরা ছিলেন আন্দোলনের সময় ছাত্রসমন্বয়কদেরও সমন্বয়ক। যাদের কাজই ছিল আন্দোলনকে গু#জব ও মিথ্যাচারের মিশেলে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া এবং দেশের ভেতরে মিডিয়ায় ও সামাজিক মাধ্যমে একই দায়িত্ব পালন করা। যদিও ইতোমধ্যে এদের কেউ কেউ নিজেদের ভুল বুঝে প্রায়শ্চিত করা শুরু করেছেন। তারা এখন দিব্যচোখে দেখতে পারছেন যে, আন্দোলনের আড়ালে ছিল সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র ধর্মাশ্রয়ীরা।
প্রবল প্রতাপশালী শুধু এই কয়েকজনই নয়। বরং বিভিন্ন পদে যারা নিয়োগ পেয়েছেন, প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছেন তারা সকলেই এই গোত্রভুক্ত। সেইসব নামগুলো যেহেতু অন্যভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তাই এখানে যুক্ত করা হলো না।
প্রবাসীদের মধ্যে জাওয়াদ নির্ঝর, ইলিয়াস হোছাইন, এরকম কয়েকজন রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের জন্য বিভিন্ন মামলায় আসামী হয়েছিলেন। যেসব মামলা খোদ ইউনূস সরকারও বাতিল করেনি। তাছাড়া এরকম বিচ্ছিন্ন ও ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত মামলার বিপরীতে অগণিত সাংবাদিকের নামে হত্যা মামলা? চাকরিচ্যুতি বা বিভিন্নবানে হয়রানি করা হবে? এসব বাকস্বাধীনতার কোন পর্যায়কে ধারণ করে তা বলা কঠিন। আর উল্লেখিত নামগুলোর কেউ চাকরিচ্যুত, হয়রানি বা মামলার শিকার হয়নি। পুরো ১৬ বছর বহাল তবিয়তে সাংবাদিকতা করেছেন, ফেইসবুকে শেখ হাসিনার পিণ্ডি চটকেছেন; কিন্তু একটি ফুলের টোকাও লাগেনি কারও শরীরে। আর এখন? নয়া বন্দোবস্তের বাংলাদেশে হাত বেঁধে, মুখে কুলুপ এঁটে, পায়ে শিকল পরিয়ে কালিবিহীন কলম ধরিয়ে বলা হচ্ছে যা খুশি লেখো, লেখো তোমার ‘হযরত ইউনূসে’র নামে!
অবশ্য বাংলা ভিশনের সাবেক সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজ দীপু অপপ্রচার করেন যে, আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিএফআই তাঁকে সরিয়েছে। অথচ বাস্তবতা হলো- বাংলা ভিশন টিভিতে আবদুল হক ও ইশরাক হোসেনের মালিকানা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে চাকরিচ্যুত হয়েছেন তিনি। আর যদি মোস্তফা ফিরোজের অভিযোগ সত্যও হয়ে থাকে, তাহলে সেটাও তারেক রহমানের একান্ত আস্থাভাজন আবদুল হকের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারসাজিতে হয়েছে। এখানে সরকারের কোন স্বার্থ ছিল না।
আরেকজন অত্যন্ত পরিচিত সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম, তাঁকে ফাইল চুরির একটি মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছিল। এটি এমন একটি বিষয় ছিল, যেখানে ব্যবসা ও সাংবাদিকতাকে গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক পন্থায় উদ্ভূত সমস্যার সমাধান করা হয়নি। রোজিনা ইসলাম মূলত দৈনিক প্রথম আলোর মালিক ট্রান্সকম গ্রুপের মালিকানাধীন এসকেএফ (SKF) ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে দাখিল করা একটি টেন্ডারের কাজের ডকুমেন্ট চুরি করেছিলেন। কিন্তু যখন ধরা পড়লেন, তখনই তাঁর সাংবাদিক পরিচয়কে সামনে এনে সরকারকে বেকায়দায় ফেলা হয়েছিল। একই রকম ফাইল চুরি করার কারণে প্রথমবার মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পেলেও দ্বিতীয়বার জেলে যেতে হয়েছিল। তাছাড়া রোজিনা ইসলাম তাঁর স্বামীর নামে ঠিকাদারী ব্যবসা পেতে সচিবালয় ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তদবিরে সম্পৃক্ত ছিলেন, যেখানে প্রথম আলোর সাংবাদিক পরিচয়কে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন।
দখলবাজ সাংবাদিকদের অবস্থানঃ
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও কালের কণ্ঠের সম্পাদক পদ দখলকারী কথিতযশা কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের পদ দখলকারী আইয়ুব ভুইয়া, বসুন্ধরা গ্রুপের ডিএমডি ও মিডিয়া উপদেষ্টা কাদের গনি চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলানিউজ২৪.কমের সম্পাদক লুৎফর রহমান হিমেল ও নির্বাহী সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, যুগান্তরের সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, দেশ রূপান্তরের সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী, প্রতিদিনের বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোরসাছীন বাবলা, সময়ের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, যায়যায়দিনের নির্বাহী সম্পাদক খুরশীদ আলম; ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, ম্যানেজিং এডিটর সাইদুল ইসলাম এবং নির্বাচন ও রাজনীতি বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান, দৈনিক ভোরের আকাশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন খান, দৈনিক জনকণ্ঠের সিওও মেজর (অব) শেখ আফিজুর রহমান, সর্বশেষ দৈনিক বাংলার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের পদ দখল করেছেন বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম মনি;
এগুলো হলো দৈনিক পত্রিকার দখলবাজদের নাম। টিভি চ্যানেলগুলোর দখলবাজদের তালিকাও আছে। যথা- একুশে টিভির বার্তা প্রধানের চেয়ার দখল করেছেন হারুন উর রশীদ স্বপন, ডিবিসি টিভির শীর্ষ পদে লোটন একরাম, আরটিভির বার্তা প্রধান ইলিয়াস হোসেন ও অ্যাসাইনমেন্ট এডিটর মাইদুল ইসলাম রুবেল, একাত্তর টিভির বার্তা প্রধান শফিক আহমেদ, বৈশাখী টিভির বার্তা প্রধান জিয়াউল কবীর সুমন ও প্রধান বার্তা সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম শান্ত, নিউজ ২৪ এর বার্তা প্রধান শরিফুল ইসলাম শরিফ ও নির্বাহী সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ, এশিয়ান টিভির বার্তা প্রধান সিরাজুল ইসলাম, দেশ টিভির বার্তা প্রধান মহিউদ্দিন, গ্লোবাল টিভির প্রধান সম্পাদক নাজমুল আশরাফ, এটিএন বাংলার দখলদার বার্তা প্রধান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ও নির্বাহী সম্পাদক মতিউর রহমান, এটিএন নিউজের বার্তা প্রধান শহীদুল আজম, এটিএন নিউজের নিউজ এডিটর মোশাররফ হোসেন, মোহনা টিভির প্রধান সম্পাদক বোরহানুল হক সম্রাট, ইন্ডিপেনডেন্ট টিভির বার্তা প্রধান মোস্তফা আকমল ও নিউজ এডিটর নুরে আলম পিন্টু, গাজী টিভির বার্তা প্রধান গাওসুল আযম বিপু, সারাবাংলা অনলাইনের হেড অব নিউজ গোলাম সামদানী;
উপরোক্ত নামগুলোর সকলেই ৫ আগস্টের পরে বড় বড় চেয়ার দখল করেছেন, বড় বড় পদে বসেছেন, নিজেই নিজেকে প্রমোশন দিয়েছেন এবং নিজেরাই নিজেদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ সুবিধা ঠিক করে নিয়েছেন। মিডিয়াপাড়ায় চলছে একধরণের গোপন মবরাজত্ব। ৫ আগস্টের আগে তারা ছিলেন রিপোর্টার, বিশেষ প্রতিনিধি, সিনিয়র রিপোর্টার ইত্যাদি পদে, কিন্তু ৫ আগস্ট তাঁদের কপাল খুলে দিয়েছে। বিগত ১৬ বছর কারও চাকরিতে কোন সমস্যা হয়নি, আর এখন তো মালিক বনে গেছেন একেকজন। এজন্যই প্রবাদে আছে, লুঙ্গি ও কপাল কার কখন খুলে যায় বলা মুশকিল!
আগেও যারা ছিলেন এখনও তারা বহালঃ
প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, নিউ এইজ, চ্যানেল আই, বিডিনিউজ২৪.কম ইত্যাদি গণমাধ্যমের নিজস্ব অবস্থান ছিল, আছে এবং থাকবে। এরা সাংবাদিকতা, ব্যবসা ও রাজনীতি একসাথে করেন। এই তালিকার নিচের দিকে দৈনিক সংবাদ, ইত্তেফাক, ইনকিলাব ও নয়াদিগন্তকেও রাখা যায়।
কিন্তু যেসব মিডিয়া লুটেরা ব্যবসায়ীদের পাহারাদার হিসেবে জন্ম ও বিকাশ লাভ করেছে, সেসব মিডিয়াতেও আওয়ামী লীগ আমলে প্রচণ্ড এন্টি-আওয়ামী লীগার সাংবাদিকেরা কাজ করেছে, নেতৃত্ব দিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কাউকে চাকরিচ্যুত বা হয়রানি করেনি। যেমন-
যমুনা গ্রুপের মালিকানাধীন চ্যানেল যমুনা টিভির সিইও ফাহিম আহমেদ, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম স্টেক হোল্ডার। তিনি আগেও যেমন ছিলেন, এখনও তেমনি বহাল আছেন।
এ কে আজাদের মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল ২৪ এর বার্তা প্রধান তালাত মামুন, বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালুর এনটিভির বার্তা প্রধান জহিরুল ইসলাম, এনটিভি অনলাইনের সম্পাদক ফখরুদ্দিন জুয়েল, বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের বাংলা ভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিক, স্কয়ার গ্রুপের মাছরাঙা টিভির সিইও রেজওয়ানুল হক রাজা, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুক হক জাহিদ, দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ; তারা সকলেই আগেও যেমন ছিলেন এখনও তেমনি আছেন। এগুলোসহ আরও কিছু মিডিয়া শেখ হাসিনার পতনের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করেছে এবং আপাতত সফলও হয়েছে। এসব জেনেও আওয়ামী লীগ সরকার কোন মিডিয়া বন্ধ করেনি, কাউকে চাকরিচ্যুত বা হয়রানিও করেনি।
এমনকি দেশ টিভির নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগের আমলেই বিএনপি নেতা আরিফ হাসানের হাতে চলে গিয়েছিল।
মজার ব্যাপার হলো দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের সম্পাদক ইনাম আহমেদ ছিলেন এডিটরস গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক, আর মোজাম্মেল বাবু ছিলেন প্রেসিডেন্ট। একই অপরাধে ক্যান্সারে আক্রান্ত মোজাম্মেল বাবু কয়েকটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে এখন কারাগারে বন্দি আর ইনাম আহমেদ বহাল তবিয়তে ওরিয়ন গ্রুপের মালিকানাধীন পত্রিকায় সম্পাদকগিরি করে যাচ্ছেন।
শেষকথাঃ
তাই বলে কি আওয়ামী লীগ আমলে কোন সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়নি? অবশ্যই হয়েছে। ন্যায় ও আইনের পথে যেমন কেউ কেউ মামলার আসামী হয়েছেন, আবার অন্যায়ভাবেও কেউ কেউ হয়রানির শিকার হয়েছেন। হামলার শিকারও হয়েছেন, মৃত্যুর ঘটনাও আছে।
কোন বিক্ষুব্দ ব্যক্তি যদি কারও নামে মামলা করে সেটা অবশ্যই সরকারের দায় নয়, বরং সরকারের দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তা উভয়পক্ষের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে এরকম অনেক মামলায় রিপোর্টার, সম্পাদক ও প্রকাশক আসামী হয়েছেন। এটা মিডিয়াপাড়ার খুব স্বাভাবিক ঘটনা।
এছাড়াও কয়েকটি অন্যায় ঘটনাও ঘটেছে। যেমন- বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক সাংবাদিক মোবাশ্বির হাসান সিজারের নিখোঁজ হওয়া, সাংবাদিক উৎপল দাসের নিখোঁজ হওয়া উল্লেখযোগ্য। যদিও পরবর্তীতে দুজনেই ফিরে এসেছেন এবং কর্মে নিয়োজিত আছেন। তারা সরকারের কোন বাহিনীর কাছে নাকি অন্য কোন অপশক্তির কাছে বন্দি ছিলেন তা এখনও রহস্যেঘেরা।
উপরের ঘটনাগুলোর সাথে কিংবা এসবের পেছনে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন বা সমর্থন ছিল বলে কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে সরকারের তরফ থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারা অবশ্যই ব্যর্থতা বলে গণ্য হবে।
পক্ষান্তরে ড. ইউনূস জমানায় সম্পূর্ণ উল্টা চিত্র দেখা যাচ্ছে। সরকারের নির্দেশে মামলা করা হচ্ছে, গ্রেফতার করা হচ্ছে, চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে, মব সৃষ্টি করে হেনস্থা করা হচ্ছে, আক্রমণ করে নির্যাতন করা হচ্ছে, মিডিয়া হাউজ দখল করে চাঁদা নেয়া হচ্ছে, সামাজিক মাধ্যমে তালিকা বানিয়ে চরিত্রহনন করা হচ্ছে, অর্থাৎ হয়রানির যতরকম পন্থা আছে সবই প্রয়োগ করা হচ্ছে সাংবাদিকদের উপরে।
প্রিয় পাঠক, উপস্থাপিত তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের অতীত ও বর্তমান নিয়ে আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন। প্রয়োজনে আরও তথ্য হাজির করুন এবং আমার এই লেখাকে ‘বাহুল্য ও অতিরঞ্জিত’ বলে প্রমাণ করুন। এতেই গণমাধ্যমের মঙ্গল নিহিত রয়েছে।
