নিজস্ব প্রতিবেদক
গত বছরের ৫ই আগস্টের পর দেশে চলমান অস্তিরতায় ২ শতাধিক গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব কারখানার বেতন-ভাতাসহ শ্রমিকদের দাবি আদায়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিজিএমইএ-এর তথ্য বলছে, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর এবং সাভার এলাকায় গত ৭ মাসে ২০০টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব বন্ধ কারখানায় প্রায় ২ লক্ষ শ্রমিক কর্মরত ছিলেন।
বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে মূলত ঋণসংক্রান্ত সমস্যা, ব্যাংকিং সহায়তা না পাওয়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উৎপাদন খরচের বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে।
গাজীপুর ও সাভার অঞ্চলে গার্মেন্টস শিল্পের ক্রমবর্ধমান সমস্যায় শ্রমিকদের বেকারত্ব, বেতন-ভাতার বকেয়া এবং অন্যান্য দাবিতে কর্মবিরতি ও সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটছে। হাজার হাজার শ্রমিক বকেয়ার দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। বিশেষ করে, গাজীপুর ও সাভারের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিপর্যস্ত হচ্ছে।
এ অবস্থায় সরকারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শ্রমিকদের যৌক্তিক বেতন-ভাতা সহ অন্যান্য দাবির বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক এবং সরকার এই দাবিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কলকারখানার শ্রমিকদের পাওনা বেতন-ভাতা এবং যৌক্তিক দাবিসমূহের ব্যাপারে সরকার সুনিশ্চিতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
তবে মন্ত্রণালয় অযৌক্তিক দাবির নামে গার্মেন্টস শিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে।
তারা বলেছে, অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ, নৈরাজ্য এবং সহিংসতা কোনভাবেই কাম্য নয় এবং তা কখনোই মেনে নেয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সরকার তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কারখানার মালিকপক্ষ এবং বিজিএমইএকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্প কলকারখানায় সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকপক্ষ উভয়ের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে, যাতে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে।
গাজীপুর এবং সাভারে গার্মেন্টস শিল্পের সংকট আরও গভীর হতে থাকলে, এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) শিল্প দেশের প্রধান রপ্তানি খাত এবং শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের অন্যতম উৎস, ফলে সরকারের পক্ষ থেকে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।
এছাড়া, মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকদের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা স্থাপনের জন্য সরকারের পদক্ষেপগুলির সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য অধিকার আদায়ে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি, গার্মেন্টস শিল্পের পুনরুদ্ধারে মালিকপক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে হবে।
