রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, এখন প্রতিরোধের জন্য অস্ত্র হাতে তুলছে

রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়েছিল, এখন প্রতিরোধের জন্য অস্ত্র হাতে তুলছে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার, ২৭ মার্চ ২০২৫: বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিরোধের গুঞ্জন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এই মুসলিম সংখ্যালঘুরা এখন অস্ত্র হাতে তুলে নিজেদের মাতৃভূমি ফিরিয়ে নিতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তরুণ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও তাদের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়তে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
২৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আয়াস নামে এক রোহিঙ্গা শরণার্থী, যিনি শিবিরে শিশুদের বার্মিজ ভাষা শেখান, জানান, তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গভীর রাতে কক্সবাজারের কুতুপালং শিবির থেকে বেরিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে ছয় মাস প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
“আমরা প্রস্তুত। আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত। আমাদের মাতৃভূমি, আমাদের অধিকার ও স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে এই লড়াইয়ে আমার কিছু যায় আসে না,” বলেন আয়াস।
তিনি এবং তার মতো শত শত রোহিঙ্গা তরুণ স্বেচ্ছায় সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছেন।
training camp in Rakhine
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারের ৩৩টি শিবিরের একটিতে একজন গোপন কমান্ডারের সঙ্গে সাক্ষাতের বর্ণনা রয়েছে। ৩০-এর মাঝামাঝি বয়সী এই কমান্ডার, যিনি নিজেকে রায়নাইং সো নামে পরিচয় দিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের একত্রিত করে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে “বিপ্লব” শুরু করার কথা বলেন। তিনি জানান, শরণার্থীরা গোপনে মিয়ানমারে গিয়ে সপ্তাহ বা মাসব্যাপী অস্ত্র প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রশিক্ষণে শারীরিক সক্ষমতা, অস্ত্র চালনা, মার্শাল আর্ট এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কৌশল শেখানো হয়।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আয়াসের বাবা সেই সময় গুলিতে নিহত হন। “সৈন্যরা এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়েছিল, আমাদের মানুষদের হত্যা করেছিল,” তিনি স্মরণ করেন। শিবিরে জীবনের দুর্দশা, সুযোগের অভাব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন তাকে এবং অন্যদের প্রতিরোধের পথে ঠেলে দিয়েছে।
রোহিঙ্গারা বলছেন, তারা মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চির ওপর ভরসা করেছিলেন, কিন্তু ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। এখন তারা আর অপেক্ষা করতে রাজি নন। “আমাদের নিজেদের জন্য দাঁড়াতে হবে। আমাদের জমি, অধিকার ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হবে,” আয়াস জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া এবং চলমান দারিদ্র্য রোহিঙ্গাদের এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত করছে। মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি না হওয়ায় এবং শিবিরের পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরও বেশি রোহিঙ্গা অস্ত্র হাতে তুলতে পারে। “আমাদের লক্ষ্য শান্তি। আমরা অধিকার ও সুযোগ নিয়ে বার্মায় শান্তিতে বাঁচতে চাই,” বলেন আয়াস।
Visited 57 times, 1 visit(s) today