পুতিন-শলৎজের ফোনালাপের খবরে চটেছেন জেলেনস্কি

পুতিন-শলৎজের ফোনালাপের খবরে চটেছেন জেলেনস্কি
শেয়ার করুন
আন্তর্জাতিক

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের মধ্যে দুই বছর পর ফোনালাপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, এই ফোনালাপের ফলে রাশিয়াকে একঘরে করার পশ্চিমা কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। একইসাথে পুতিনের পরিকল্পনা সফল করতে সাহায্য করা হয়েছে।

শলৎজের ফোনালাপের সমালোচনা করে জেলেনস্কি বলেন, এই আলাপের মাধ্যমে শলৎজ মূলত ‘প্যান্ডোরার বাক্স’ খুলে দিয়েছেন।

গ্রিক পুরাণের এই রূপক ব্যবহারের মাধ্যমে মূলত তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই আলাপচারিতা বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যা জেলেনস্কিকে পরাস্ত করা ক্ষেত্রে পুতিনকে সাহায্য করবে।

গত শুক্রবার, ২০২২ সালের ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো পুতিন ও শলৎজ এক ঘণ্টা ধরে ফোনে আলাপ করেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর পশ্চিমা দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে পুতিনের এই ধরনের যোগাযোগ খুবই বিরল।

জার্মানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনায় শলৎজ ইউক্রেন থেকে রুশ বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

যদিও ক্রেমলিনের দাবি, এই আলাপ বার্লিনের অনুরোধেই সংগঠিত হয়েছে। একইসাথে পুতিনও উল্লেখ করেছেন, যেকোনো শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়ার নিরাপত্তা স্বার্থ এবং নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতাকে সম্মান করতে হবে।

আজ শনিবার এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আগামী বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা করবেন।

তবে তার অভিযোগ, পুতিন এখনো শান্তি আলোচনায় কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

জেলেনস্কি আরও বলেন, পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিস্থিতি জটিল এবং রাশিয়া সেখানে অগ্রসর হচ্ছে। যুদ্ধের এই ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রয়াস আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনো আইনি বাধার কারণে সরাসরি দেখা করতে না পারলেও, ভবিষ্যতে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে আগ্রহী।

গত শুক্রবার দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে তার দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে কোনো বিরোধপূর্ণ বার্তা পাননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের পরিবর্তনের পর ইউক্রেন আশঙ্কা করছে, চলমান যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা রাশিয়াকে কিছু ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সংঘাত সমাধান করবেন। যদিও কৌশল নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

শলৎজ-পুতিন ফোনালাপ এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইউক্রেন যুদ্ধের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ ইউক্রেনের কৌশলগত অবস্থানকে প্রভাবিত করতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, এই কূটনৈতিক আলোচনাগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা এবং দ্বন্দ্বের সূচনা করতে পারে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today