কূটনীতি ডেস্ক:
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক দুই দিনের এক সফরে ঢাকায় এসেছেন।
সোমবার দিনগত রাতে (২৯শে অক্টোবর) দুজন সফরসঙ্গীসহ কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইট নং- কিউআর-৬৩৮-এর মাধ্যমে জেনেভা থেকে দোহা হয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ভলকার টুর্ক। এ সময় তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ও মুখপাত্র তৌফিক হাসান।
এসময় ভলকার টুর্কের সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘের মনাবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের পাব্লিক ইনফরমেশন অফিসার অ্যান্থনি এভারেট হেডলি এবং একই দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা কিশিন সামদাসানি।
গত ৫ই আগস্টের পর থেকে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ, নির্যাতন, ধর্ষণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গণহারে মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর চালানো হচ্ছে হিটলারের ‘গেস্টাপো বাহিনীর’ অনুকরণে নির্যাতন, নিপীড়ন। ছাত্রলীগ কর্মীদের অবৈধভাবে পরীক্ষার হল থেকে তুলে নিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তাদের শিক্ষাজীবন পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তিন হাজারেরও বেশি সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এমন এক অরাজক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্কের এই সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের মতে, তার এই সফরে মানবাধিকার, নিরাপত্তা এবং নির্বাচন ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
মানবাধিকার ইস্যুর মধ্যে জাতিসংঘ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পৃক্ত। নিরাপত্তা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারে জাতিসংঘের কাছে সহযোগিতা চায় অন্তর্বর্তী সরকার। জাতিসংঘও সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। কিন্তু কোন ফরম্যাটে কীভাবে সহযোগিতা হতে পারে, তা টুর্কের ঢাকা সফরের আলোচনার টেবিলে উপস্থাপন করার কথা রয়েছে।
সোমবার জাতিসংঘের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভলকার টুর্ক ২৯ থেকে ৩০শে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করবেন। এই সফরে তিনি অন্যদের মধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করবেন।
ভলকার টুর্কের এই সফরে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের সাথে বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হবে বলে আশা করছেন সুধী সমাজ। ৫ই আগস্টের পর থেকে যা কিছু ঘটেছে দেশে, তার বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবেন টুর্ক, এমনটাই আশা করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
সফরকালে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন উপদেষ্টা, প্রধান বিচারপতি, সেনাপ্রধানসহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রধানদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধানের।
আজ ২৯শে অক্টোবর, বিকেল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভলকার টুর্ক একটি ভাষণ দেবেন। আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খানসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা এবং বাংলাদেশে কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের সঙ্গেও তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
