শেখ হাসিনা সরকারের প্রকল্পের ফিরিস্তি সংসদে: যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের কথা স্বীকার মন্ত্রীর

শেখ হাসিনা সরকারের প্রকল্পের ফিরিস্তি সংসদে: যোগাযোগ খাতে উন্নয়নের কথা স্বীকার মন্ত্রীর
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া সড়ক, সেতু, রেলপথসহ যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন প্রকল্পের ফিরিস্তি তুলে ধরে জাতীয় সংসদে এর সুফলের আশাবাদ শোনালেন রেল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

আজ ৯ই এপ্রিল, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে মন্ত্রী চলমান প্রকল্পগুলোর কথা জানান।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্তরটি উত্থাপিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীর ঢাকা-১৮ নির্বাচনী এলাকার যানজট নিরসনে সরকারের নেওয়া বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জাতীয় সংসদে জানানো হয়েছে। এই এলাকায় দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে বিআরটি (বিআরটি) প্রকল্পের পাশাপাশি ৩৪০টি নতুন সিএনজিচালিত এসি বাস নামানোর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

লিখিত জবাবে জানানো হয়, বনানী ওভারপাস থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত সড়কটি সড়ক বিভাগের আওতাধীন। যানজট নিরসনে ইতোমধ্যে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন বলাকা ভবন, তৃতীয় টার্মিনাল ও কাওলা এলাকার সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সড়ক বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে এই এলাকায় যানজট নিরসনে তিনটি প্রধান প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। কাজগুলো হলো—

মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন-১: ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য গৃহীত ৬টি মেট্রোরেল প্রকল্পের অংশ হিসেবে এয়ারপোর্ট হতে কুড়িল পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণ কাজ চলমান। এই লাইনটি চালু হলে উত্তরার যাতায়াত ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

বিআরটি প্রকল্প: এয়ারপোর্ট হতে গাজীপুর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে। এর আওতায় বিদ্যমান সড়কটিকে ৮ লেনে উন্নীত করা হচ্ছে।

এছাড়া এয়ারপোর্ট, জসীমউদ্দীন ও গাজীপুর ইউ-টার্নসহ মোট আটটি ফ্লাইওভার এবং ৪.৫ কিমি উড়াল সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মাত্র ৩৫-৪০ মিনিটে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।

৩৪০টি এসি বাস সংগ্রহ: যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিক করতে বিআরটিসি’র মাধ্যমে ৩৪০টি একতলা সিএনজি এসি বাস সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উত্তরা, এয়ারপোর্ট ও খিলক্ষেত রুটে উন্নত বাস সার্ভিস চালু হবে, যা ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যানজট নিরসনে ভূমিকা রাখবে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-১৮ আসনের জনগণের যাতায়াত ব্যবস্থা হবে আধুনিক, সাশ্রয়ী ও সম্পূর্ণ যানজটমুক্ত।

Visited 45 times, 1 visit(s) today