“পাকিস্তান দিবস নয়, প্রতিরোধ দিবস” — ২৩ মার্চ ১৯৭১: বঙ্গবন্ধুর হাতে উড়ল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা

“পাকিস্তান দিবস নয়, প্রতিরোধ দিবস” — ২৩ মার্চ ১৯৭১: বঙ্গবন্ধুর হাতে উড়ল স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

 

ঢাকা, ২৩ মার্চ ২০২৬: আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অমর দিন—১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ। এই দিনটি একসময় পালিত হতো ‘পাকিস্তান দিবস’ বা লাহোর প্রস্তাব দিবস হিসেবে। কিন্তু অসহযোগ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে এদিন পরিণত হয় ‘প্রতিরোধ দিবস’-এ। সারাদেশে পাকিস্তানের পতাকার পরিবর্তে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা—যার মাঝে তখনো সোনালি মানচিত্র খচিত ছিল।

 

সকালের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে হাজারো মানুষের সামনে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। এটিই ছিল বাঙালির স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব উত্তোলনের প্রথম ঘটনা। এই মুহূর্তটি ছিল স্বাধীনতা ঘোষণার প্রাক্কালে জাতিকে দেওয়া শেষ প্রেরণা। বঙ্গবন্ধুর এই পতাকা উত্তোলনের পরপরই সারাদেশে একই চিত্র: সচিবালয়, হাইকোর্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে তোলা হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। অনেক স্থানে পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকাও উড়ানো হয় পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে।

 

শুধুমাত্র প্রেসিডেন্ট ভবন, গভর্নর হাউস, ক্যান্টনমেন্ট এবং তেজগাঁও বিমানবন্দরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পাকিস্তানের পতাকা উড়তে দেখা যায়—যা পাকিস্তানি শাসনের ক্রমবর্ধমান দুর্বলতারই প্রতীক ছিল।

 

এদিন বঙ্গবন্ধু ২৩ মার্চকে সাধারণ ছুটির দিন ঘোষণা করেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পল্টন ময়দানে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করে এবং পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত করে তোলে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজপথে মিছিল, স্লোগান আর ‘আমার সোনার বাংলা’ গানে প্রকম্পিত হয় ঢাকা।এই দিনের ঘটনা ছিল ৭ মার্চের ভাষণের পর আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া—স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়ার স্পষ্ট ঘোষণা। মাত্র তিন দিন পর, ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এবং অপারেশন সার্চলাইটের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।

 

২৩ মার্চ ১৯৭১—একটি পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ছিন্ন করে স্বাধীনতার পথে অদম্য অগ্রযাত্রা শুরু করে। আজও এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—পতাকা শুধু কাপড়ের টুকরো নয়, তা জাতির স্বপ্ন, রক্ত আর সংগ্রামের প্রতীক। জয় বাংলা!

 

Visited 26 times, 1 visit(s) today