বিসিবি নির্বাচনে স্বচ্ছতার অভাব ছিল কি না, সেই প্রশ্ন রেখে বোর্ড থেকে বিদায় নিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক আমজাদ হোসেন। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, বিসিবির সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আরও স্বচ্ছতা থাকার অবকাশ ছিল।
ব্যক্তিগত কারণ ও কমিটির পুনর্গঠন
মিডিয়া ও কমিউনিকেশন কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরপরই বোর্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন আমজাদ। পদত্যাগের কারণ হিসেবে ‘ব্যক্তিগত’ বিষয়ের কথা উল্লেখ করলেও তিনি বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বোর্ড যেকোনো স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করতে পারে। হয়তো বোর্ড মনে করেছে আমার সেবার আর প্রয়োজন নেই। সেই জায়গা থেকেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা
নির্বাচন প্রসঙ্গে সরাসরি আক্রমণাত্মক না হলেও আমজাদ হোসেন অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন:
‘আগের সময়গুলোতে অনেক প্রিমিয়ার লিগ ক্লাবের প্রতিনিধি থাকত, এবার সেই সংখ্যা অনেক কম। এমনকি অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যা আগে সচরাচর দেখা যায়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘অংশগ্রহণের দিক থেকে এটি হয়তো আরও স্বচ্ছ হতে পারত। সেটি হলে নিশ্চিতভাবেই আরও ভালো হতো।’ তবে নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন ওঠা বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তদন্ত ও উমরাহ পালন
নির্বাচনি অনিয়ম নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তদন্ত বা এ সংক্রান্ত বিসিবির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নিয়ে আমজাদ বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। গত ১০ দিন উমরাহ পালনের জন্য দেশের বাইরে থাকায় তিনি কোনো যোগাযোগের মধ্যে ছিলেন না বলে জানান।
ক্রিকেটের প্রতি আজীবন সম্মান
বিদায়লগ্নে বিসিবির সঙ্গে তাঁর কোনো তিক্ততা নেই বলে দাবি করেন এই সাবেক পরিচালক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করতে পারাকে নিজের জন্য ‘সম্মান’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন যেন বোর্ডের সমালোচনার পাশাপাশি তাদের ভালো কাজগুলোও জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়।
