ক্রাইসিস বাটন চেপে সলোমন দ্বীপের মত ক্ষুদ্র অর্থনীতির পর্যায়ে নেমে এলো বাংলাদেশ!

ক্রাইসিস বাটন চেপে সলোমন দ্বীপের মত ক্ষুদ্র অর্থনীতির পর্যায়ে নেমে এলো বাংলাদেশ!
শেয়ার করুন

❐ বিডি ডাইজেস্ট ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি এশিয়ার ইমার্জিং টাইগারে রূপ নিয়েছিল। যা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে তুমুল প্রশংসিত হয়েছিল। সেই অবস্থান থেকে ইউনূস সরকারের হাত ধরে অর্থনীতি এতটাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে যে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও ৩ বছর বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে আবেদন করতে হয়েছে।

গত বুধবার বাংলাদেশের এই আবেদন নিয়ে জাতিসংঘ তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দেবে না বলে জানা গেছে ইতিমধ্যে; বিষয়টি পর্যালোচনায় সময় লাগবে।

কিন্তু বাংলাদেশ ‘ক্রাইসিস বাটনে’ চাপ দিয়েছে বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

আগামী সোমবার নিউইয়র্কে পাঁচ দিনব্যাপী জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠক শুরু হচ্ছে। ওই বৈঠকেই বাংলাদেশের আবেদন কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, তার রূপরেখা নির্ধারণ হবে।

বৈঠকে অংশ নিতে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে গেছেন। তিনি সিডিপির সদস্য এবং এর এনহ্যান্সড মনিটরিং মেকানিজম (ইএমএম) উপকমিটির প্রধান।

ইএমএম কাঠামোর মধ্যে ‘ক্রাইসিস বাটন’ নামে একটি বিশেষ বিধান রয়েছে, যা অস্বাভাবিক বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি তৈরি হলে ব্যবহার করা হয়।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই ক্রাইসিস বাটন চেপে দিয়েছে।

এর আগে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এ সুযোগ নিয়েছিল এবং তাদের উত্তরণ দুই থেকে তিন বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহে ইএমএম উপকমিটির বৈঠকেও যেসব দেশ ইতোমধ্যে উত্তরণ সম্পন্ন করেছে এবং যেসব দেশ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। বর্তমানে উত্তরণের তালিকায় থাকা তিনটি দেশ হলো—বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওস।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন বিষয় হলো উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আবেদন। তবে এটি সরকারপ্রধানের পরিবর্তে এক সচিবের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে। নতুন সরকারের অভ্যন্তরীণ আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে জানান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তার মতে, মূল্যায়নের সময় আগের উত্তরণ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সঙ্গে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে গত নভেম্বর মাসে সরকারের পাঠানো অগ্রগতি প্রতিবেদনের সঙ্গে বর্তমান আবেদনের তুলনা করা হবে। কারণ একই সচিব তখন জানিয়েছিলেন, উত্তরণ প্রস্তুতি সন্তোষজনক রয়েছে। উত্তরণ কৌশলপত্র বাস্তবায়নে বাংলাদেশের আন্তরিকতাও বিবেচনায় আসবে।

অন্তর্বর্তী সরকার আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হবে না। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আবেদন পাঠানো হয়েছে। নেপাল ও লাওসের পক্ষ থেকে এ ধরনের নতুন কোনো আবেদন আসেনি। ফলে বাংলাদেশের আবেদন মূল্যায়নের সময় তাদের অভিজ্ঞতাও তুলনামূলকভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী গত বুধবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের অধীন সিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে চিঠি পাঠান। এতে দেশীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত উত্তরণ কার্যক্রম পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪শে নভেম্বর বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণ হওয়ার কথা। এর আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর প্রতি তিন বছর অন্তর মূল্যায়ন করা হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ও জলবায়ুজনিত ঝুঁকিপূর্ণতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না।

যেকোনো দুটি সূচকে মানদণ্ড পূরণ করতে হয়, অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ মানদণ্ড পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছিল—মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণতা সূচক। ২০২১ সালেই সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বের হবে। তবে করোনাভাইরাস মহামারির কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়।

Visited 34 times, 1 visit(s) today