ইউনূস সরকার চলছে জামায়াতের প্রভাবে: মাসুদ কামাল

ইউনূস সরকার চলছে জামায়াতের প্রভাবে: মাসুদ কামাল
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত শুক্রবার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয় হবিগঞ্জ জেলা শাখা বৈছার সদস্যসচিব জুলাইযোদ্ধা মাহদী হাসান ‘আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মেরেছি’ বক্তব্য দেওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিক মাসুদ কামাল।

জুলাই বিক্ষোভের একনিষ্ঠ সমর্থক এই সাংবাদিক বলেছেন, ইউনূস সরকার জামায়াতের প্রভাবে চলছে। তাদের ইশারা ছাড়া কোনও কাজ করছেনা।

হবিগঞ্জের ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।

এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, বারবার শোনা যাচ্ছে পুলিশের মনোবল ভেঙে গেছে-এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু পুলিশের মনোবল চাঙ্গা করতে কি আদৌ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে? বরং পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে পুলিশকে মাহদী হাসানদের নিচে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা থানায় এসে পুলিশকে ধমকাবে, বন্ধু-বান্ধবকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাদের বন্ধুরা কোনো অন্যায় করেছে কি না, সে প্রশ্ন তোলারও সুযোগ থাকবে না। এমন অবস্থায় পুলিশকে বসিয়ে রেখে আবার মনোবল চাঙ্গা হওয়ার আশা করা কীভাবে সম্ভব?

মাসুদ কামাল বলেন, ভাবুন একজন পুলিশ কর্মকর্তা, যার সহকর্মীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে, তিনি জানেন যে এর কোনো বিচার হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি কি আর দায়িত্ব পালনে আগ্রহী হবেন? তার মনে তো ভয় কাজ করবেই কোনো একদিন তাকেও পুড়িয়ে দেওয়া হতে পারে, তবু বিচার হবে না। আর যারা এই সহিংসতা চালায়, তারা যদি জানে শাস্তি নেই, তাহলে তারা আরও বেপরোয়া হবে। এভাবে আইনের যে অবস্থান তৈরি করা হয়েছে, তাতে রাষ্ট্র ও সরকারের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, ড. ইউনূস একটি সরকার গঠন করেছেন। এই সরকারের বর্তমান অবস্থার পেছনে কারা প্ররোচনা দিচ্ছে, সেটাও আমাদের দেখতে হবে।

তার মতে, সরকার এখন এখন জামায়াতের প্রভাবের মধ্যে চলে গেছে এবং তারাই এই ধরনের চাপ তৈরি করেছে।

মাসুদ কামাল প্রশ্ন তোলেন, কোন দেশে আমরা বাস করছি? কোথায় আইন ও শাসনব্যবস্থা? যে পুলিশ সদস্যকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, গায়ে আগুন দেওয়া হয়েছে, থানার ভেতরে পিটিয়ে মারা হয়েছে— তার সন্তান ও পরিবারও তো এই দেশের নাগরিক। তাদের প্রতি কি সরকারের কোনো দায় নেই? একজন পুলিশ সদস্য কর্মরত অবস্থায় নিহত হলে তার পরিবারের যে আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার কথা, তা কি তারা পাচ্ছে? কেন পাচ্ছে না? তারা তো ঊর্ধ্বতনদের আদেশ অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করছিল।

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, একদিকে একজন আইজিপি পাঁচ বছরের সাজা পাচ্ছেন, আর অন্যদিকে একজন পুলিশ সদস্যের জীবন চলে যাচ্ছে। এটাকেই কি বৈষম্যবিরোধিতা বলা হচ্ছে?

মাসুদ কামাল বলেন, এই বৈষম্যের সমাধান কে করবে? একটি প্রজন্মকে যদি এভাবে বৈষম্যের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়, তাহলে পুলিশ কর্মকর্তা পরিবারের সন্তানরা কি এই সরকার ও এই ব্যবস্থার প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ নিয়ে বড় হবে না? তাহলে কিসের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন? প্রতিটি পদক্ষেপেই তো বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

Visited 11 times, 1 visit(s) today