বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা: আগামী ৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হবে বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা: আগামী ৫ বছরে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হবে বাংলাদেশ
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন “From Risk to Resilience: Helping People and Firms Adapt in South Asia” অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে এবং এই অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশই থাকবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মারাত্মক জলবায়ু ঝুঁকির শিকার হবে।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেছেন, “দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অতি ঘন জনসংখ্যা এবং নিম্নাঞ্চল হওয়ায় এটিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের (২০০৯-২০২৪) উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ

যদিও ভবিষ্যতের ঝুঁকি গুরুতর, তবু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমনে বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অর্জন হলো:

১. ঘূর্ণিঝড়ে মৃত্যুহার শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে আনা

২০০৯ সালের আগে প্রতি বড় ঘূর্ণিঝড়ে লাখ লাখ মানুষ মারা যেত। কিন্তু ২০০৯-২০২৪ মেয়াদে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ (৪,০০০+), উপকূলীয় বাঁধ পুনর্নির্মাণ ও সিপিপি’র ৭৬,০০০ স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে প্রাথমিক সতর্কতা ব্যবস্থার কারণে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান (২০২০), ইয়াস (২০২১), সিত্রাং (২০২২), মোখা (২০২৩) ও রিমাল (২০২৪)-এ মৃতের সংখ্যা কয়েকশ’তে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে।

২. ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন (২০১৮)

১০০ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা বিশ্বের প্রথম দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু অভিযোজন মাস্টারপ্ল্যান হিসেবে স্বীকৃত। এর আওতায় ৬৫টি স্বল্প, ৮০টি মধ্যমেয়াদি ও ৩৫টি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে।

৩. বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড (২০০৯)

নিজস্ব অর্থায়নে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার ৪৫০ মিলিয়ন ডলারের এই তহবিল গঠন করে। ২০২৪ পর্যন্ত এ তহবিল থেকে ৯০০+ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে।

৪. মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান (২০২১)

“দুর্যোগ থেকে সমৃদ্ধি” ধারণার ওপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনা COP-২৬-এ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থাপন করলে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়।

৫. নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সৌর বিদ্যুৎ

২০০৯ সালে সৌরবিদ্যুতের ক্ষমতা ছিল মাত্র ২৫ মেগাওয়াট; ২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২০০ মেগাওয়াটের বেশি। সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে ২ কোটির বেশি মানুষ বিদ্যুৎ পেয়েছে। যা পরিবেশবান্ধব ক্লিন এনার্জি খাতে বিরাট উত্তরণ।

৬. উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী

১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু হলেও আওয়ামী লীগ আমলে উপকূলীয় বনায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ হেক্টরের বেশি ম্যানগ্রোভ বন সৃজন করা হয়েছে, যা ঘূর্ণিঝড়ের গতি কমিয়ে জীবন ও সম্পদ রক্ষা করছে।

৭. জলবায়ু তহবিলে বৈশ্বিক নেতৃত্ব

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে CVF (Climate Vulnerable Forum)-এর সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ ২০১৫ সালে ১.৫ ডিগ্রি লক্ষ্যমাত্রা প্যারিস চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়।

বিশ্বব্যাংকও প্রতিবেদনে স্বীকার করেছে, বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজনে অনেক দূর এগিয়েছে, কিন্তু ঝুঁকির মাত্রা এত দ্রুত বাড়ছে যে, আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে কাজ করতে হবে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত সরকারের স্থাপিত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান ও ভবিষ্যত সরকারকে আরও বেশি বিনিয়োগ, সমন্বয় ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

Visited 63 times, 1 visit(s) today