❐ নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের প্রথম রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার চালু হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-বিএসএমএমইউ তথা বিএমইউতে।
আজ রোববার এ কেন্দ্র উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম। আপাতত শুধু জুলাই দাঙ্গায় আহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের কর্মীদের জন্য এই থেরাপি চালু থাকবে। তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি পাওয়া গেলে সাধারণ রোগীরাও এই সেবা নিতে পারবেন।
পক্ষাঘাত, স্নায়ুবিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা বা শরীরের অঙ্গের দুর্বলতাসহ জটিল পুনর্বাসনের জন্য এই সেন্টার কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নূরজাহান বেগম জানান, জুলাই দাঙ্গায় আহতদের পুনর্বাসনের জন্য চীনের কাছে ১০-১২টি রোবট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু চীন সরকার ৬২টি রোবট উপহার দিয়েছে। একই সঙ্গে বিএমইউর ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে চীন প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এখন দুর্ঘটনার ডিপো। যখন-তখন দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, হাত-পা ভাঙছে। একের পর এক দুর্ঘটনায় তরুণ প্রজন্ম কেউ হাত-পা হারাচ্ছে, কেউ স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে ভুগছে, কারো ব্রেন ড্যামেজ হচ্ছে। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসায় রোবোটিক সেন্টার বড় সুযোগ এনে দেবে। তাই এটা শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।”
বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডা. এম এ শাকুর বলেন, “সেন্টার চালুর জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত কেবল জুলাই দাঙ্গায় আহতদেরই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যন্ত্রগুলো সচল রাখতে এখন এই চিকিৎসা চলছে। অনুমতি পেলে সাধারণ মানুষের জন্যও এটি উন্মুক্ত করা হবে।”
তিনি আরও জানান, খরচ কত হবে তা নির্ধারণের জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করা হয়েছে। দেশের মানুষের সাধ্যের মধ্যে ফি নির্ধারণ করা হবে।
চীন সরকার প্রায় ২০ কোটি টাকার রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে এই প্রকল্পে। বর্তমানে সেন্টারে ৬২টি রোবট রয়েছে, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন। এসব রোবট ব্যবহার করে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী নিখুঁতভাবে ফিজিওথেরাপি, স্নায়ুবিক পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
প্রকল্পের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার দলের সহযোগিতায় বিএমইউর ২৭ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্ট প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সাইদুর রহমান, বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক শাহীনুল আলম এবং বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
