আওয়ামী লীগের মিছিল মানেই পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য রমরমা!

আওয়ামী লীগের মিছিল মানেই পুলিশের গ্রেপ্তার বাণিজ্য রমরমা!
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের পর নগরজুড়ে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের তৎপরতা। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে অতিরিক্ত চেকপোস্ট। রিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিশ সদস্যরা। এর পাশাপাশি প্রতিদিন ও রাতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে অভিযান।

এসব অভিযানের নামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর অভিযোগ, তাদের খোঁজে বাসাবাড়িতে গিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। কাউকে না পেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি দেখানো এবং টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।

কারও বিরুদ্ধে মামলা না দেওয়া, গ্রেপ্তার না করা কিংবা গ্রেপ্তার হলেও রিমান্ডে না নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

শুধু মিছিলের পরের অভিযানেই নয়, পুলিশের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই গ্রেপ্তার ও মামলা ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশের আগের মতো দৃশ্যমান প্রভাব না থাকলেও বিভিন্ন মামলায় আসামি করা, গ্রেপ্তার, রিমান্ড এবং তদন্তের ধারা নিয়ন্ত্রণের নামে অর্থ আদায়ের অভিযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

রাজধানীর এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মিছিলের পর থেকে আমাদের এলাকায় পুলিশের তৎপরতা বেড়েছে। বাসায় এসে আমাকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরে ফোনে যোগাযোগ করে টাকা চাওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে মামলায় জড়ানো বা গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে।’

ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা বলেন, ‘পুলিশের ভয় এখনো আছে, তবে আগের মতো প্রকাশ্যে নয়। কয়েক দফা বাসায় পুলিশ গিয়েছে। আমাকে না পেয়ে পরিবারের লোকজনকে নানা কথা বলা হয়েছে। পরে পরিচিত একজনের মাধ্যমে জানানো হয়, টাকা দিলে গ্রেপ্তার এড়ানো যাবে। এমনকি গ্রেপ্তার হলেও রিমান্ডে না নেওয়ার ব্যবস্থা করার কথা বলে টাকা চাওয়া হয়েছে।’

আরেক আওয়ামী লীগ কর্মীর অভিযোগ, ‘মামলায় নাম থাকলে প্রধান আসামি না করার কথা বলেও টাকা চাওয়া হচ্ছে। আবার গ্রেপ্তার হলে রিমান্ডে না নেওয়া বা রিমান্ডে কোনো নির্যাতন না করার কথা বলেও দর-কষাকষি হচ্ছে। টাকা দিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে—এমন ভয় দেখানো হচ্ছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে টার্গেট করে হয়রানি বা অর্থ আদায়ের সুযোগ নেই। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার তথ্য থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে অভিযানের নামে কেউ ব্যক্তিগতভাবে অর্থ দাবি করলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকলে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহনে তল্লাশি চালানো পুলিশের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। তবে কাউকে হয়রানি বা বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

পুলিশের এই বাড়তি তৎপরতার মধ্যেই আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই বলছেন, প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর শুধু গ্রেপ্তারের ভয় নয়, বাসাবাড়িতে পুলিশের অভিযান এবং পরিবারের সদস্যদের হয়রানির আশঙ্কাতেও তারা ভুগছেন।

এর সঙ্গে অর্থের বিনিময়ে গ্রেপ্তার এড়ানো কিংবা মামলার ধারা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

Visited 9 times, 1 visit(s) today