❐ বিশেষ প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জোবরা গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় গুপ্ত সংগঠন শিবিরের এক সাথীকে ছাদ থেকে ফেলে দেন স্থানীয়রা। তার নাম মো. রাজিউর রহমান রাজু। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি নিজেই। তবে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী ও শিবির নেতা নাইমুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৮তম ব্যাচের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু গুপ্ত সংগঠন শিবিরের কলা অনুষদ শাখার সাথী পদে রয়েছেন। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গা উপজেলার সনগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।
রাজুর ওপর হামলার বিষয়ে শিবির কর্মী শাহ আলম বলেন, মো. রাজিউর রহমান রাজুকে বাঁচাতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ, সাথী আশরাফুল আলম এবং আমাকে কোপ মারতে আসে। গ্রামের লোকজন আমাদের রামদা দিয়ে ঘিরে রাখছিল। কোনোমতে আমরা সেখান থেকে বেঁচে ফিরে আসি।
শিবির নেতা রাজু ফেসবুক লেখেন: আলহামদুলিল্লাহ! সকল প্রশংসা সেই মহান রব্বুল আলামীন এর জন্য, যিনি আমাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে নতুন জীবন দান করেছেন। জীবনের এই ৪টা ঘণ্টা সারাজীবন মনে থাকবে। বাবা-মায়ের দোয়ায় ও সকলের সহযোগিতায় আমি নিরাপদে জীবন ফিরে পেয়েছি। তোমরা শান্ত হও। আমরা তোমাদের পাশে আছি। এ ঘটনার বিচার হবে।
এদিকে, আজ দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষে শিবিরের আরেক নেতা নাইমুলও বেধড়ক পিটুনি খান। তাকে চবি মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখা দিলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
এ ছাড়া শতাধিক আহত শিক্ষার্থী চমেকে ভর্তি আছেন। চবি মেডিক্যাল সেন্টারেও আহতদের চিকিৎসা চলছে।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমার বিভাগের জুনিয়র নাইমুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে। ছোট ভাইটির জন্য সবাই দোয়া করবেন।
এদিকে, সংঘর্ষের প্রায় ৬ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে আসে যৌথবাহিনী। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সর্বাত্মক চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে, দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন হাটহাজারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মুমিন। সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
