@WitnessBD
২৬ আগস্ট ২০২৪
- গাজী টায়ার ফ্যাক্টরীতে আগুন, লুটপাট। ১৭৫ জন নিখোঁজ। ৮ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি
- জামিনে মুক্ত আনসারউল্লাহ্ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন
- ৪ হাজার আনসারকে আসামী করে মামলা
১। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক গতকাল ভোরে গ্রেপ্তার হন। বিকেলে তাঁর মালিকানাধীন নারায়নগঞ্জের রূপপুরে অবস্থিত গাজী টায়ার ফ্যাক্টরীতে দুটি গ্রুপে কয়েক শ লোক কারখানায় ঢুকে পড়েন। তাদের বাধা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। লুটপাটের পর রাত ৯টার দিকে কারখানাটির একাধিক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয় লুটপাটকারীরা। এর আগে গত ৫ আগস্ট প্রথম দফায় লুট হয় দেশের প্রধান এই টায়ার ফ্যাক্টরী। কিন্তু গতকাল লুটের পর অগ্নিকান্ড ভয়াবহ রূপ ধারন করে। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টায় ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে আজ আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। ফ্যাক্টরীর ভেতর থেকে রবিবার রাতেই ১৪ জনকে উদ্ধার করা হলেও এখনও ১৭৫ নিখোঁজ রয়েছেন দাবি করেছেন স্থানীয়রা। উদ্ধার হওয়া কিংবা নিখোঁজ থাকা কেউই কারখানাটির শ্রমিক নন। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন- “এখন পর্যন্ত ১৭৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। মূলত এরা লুটপাট করতে ভবনের উপরতলায় উঠেছিল। সে সময় ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় তারা আটকা পড়ে।”
আজ বিকেলেও কারখানার আশপাশে গাজী টায়ারসহ বিভিন্ন স্থাপনায় দুর্বৃত্তদের লুটপাট করতে দেখা গেছে। প্রায় ৪৫ একর জমির ওপর স্থাপিত কারখানাটির সামনে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে কারখানার মূল অংশে লুটপাট হচ্ছে না। তবে বিশাল এই কারখানার চারপাশের বিভিন্ন অরক্ষিত অংশে লুটপাট চলছে। কারখানা থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, স্টিল, প্লাস্টিক ও তামা লুট করে নিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
গাজী টায়ারের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম জানান, কারখানাটিতে ২ হাজার ৩০০ শ্রমিক কাজ করতেন। তাঁর দাবি, অন্তত আট হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এটি আরও বাড়তে পারে।
২। সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জামিন মুক্তি পেয়েছেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানি। আজ সোয়া ১১ টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার রেজাউল করীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন।
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবী থানার পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় রাজীবের বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট জসীম উদ্দিন রাহমানীকে বরগুনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ মামলার রায় দেন ঢাকার একটি আদালত। এই মামলায় জসিম উদ্দিনকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেন বিচারক। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনসহ মোট চারটি মামলা হয়। ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলার সাজা শেষ হলেও অন্য মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুফতি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় গতকাল ২৫ আগস্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পান তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে করা আরও তিনটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
৩। বেআইনি সমাবেশ ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঢাকার পল্টন থানায় ৪,১১৪ আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে ৯৫ জন আনসার সদস্যকে।
এদিকে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, সচিবালয়ের সামনে আনসারের ছদ্মবেশে যারা এসেছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থী-আনসার সংঘর্ষে আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান তার সঙ্গে ছিলেন। তারা ঢামেকে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কেবিনে থাকা শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তারা। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, “গতকালকের ঘটনায় আমরা খুবই ব্যথিত। যারা আনসারের ছদ্মবেশে এসেছিল, তাদের দাবি আদায়ের এজেন্ডা ছিল না, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। আপনারা দেখেছেন লাঠি তাদের স্টকে ছিল। আমরা দেখেছি কীভাবে তারা ছাত্রদের ওপর হামলা করেছে। আহত সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ আগের চেয়ে ভালো আছে। দুজন পথচারীও আহত আছে।”
সুত্র: সমকাল, ২৭ আগষ্ট ২০২৪। ঢাকা ট্রিবিউন, ২৬ আগষ্ট ২০২৪।
