– এ, এস, এম শরিফুল হাসান
নতুন বাংলাদেশে সরকার যতোই পাকিস্থানের আপন হচ্ছে ততোই ইতিহাস মুছে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহিদ তারা মানতে চায় না। রেফারেন্স হিসাবে আনতেছে শর্মিলা বসু’র ডেড রেকনিং বইটা, যেটা আইএসআই এর ফান্ডিং এ একটা ফরমায়েসী ন্যারেটিভ হিসাবে ইতিহাসবিদদের কাছে স্বীকৃত। আর আছে কিছু অর্বাচিন টকার ও ইউটিউবার। তারা প্রতিনিয়ত, দেশের প্রতিটা ব্যাপারে, ইতিহাসের ব্যাপারে বিভ্রান্ত করে চলছে নতুন প্রজন্মকে।
কোনটা বিশ্বাস করবে নতুন প্রজন্ম? তারা কেন মুক্তিযুদ্ধের গর্বিত ইথাসকে ধারন করতে পারছে না? কারন তারা প্রতিনিয়ত বিভ্রান্ত হচ্ছে, বিভ্রান্ত করছে একটা পক্ষ, যারা জানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস প্রতিষ্ঠিত হলে, তাদের কোন গ্রহনযোগ্যতা থাকবে না। কারন মুক্তিযুদ্ধের সময়, পাকিস্থানি শাসনামলে তারা ছিল সুবিধাপ্রাপ্ত শ্রেনী। মূলত এরা ইতিহাসকে অস্বীকার করে নিজেদের পূর্বপুরুষের অবস্থানকে জায়েজ করতে চায়।
নতুন প্রজন্ম, তোমরা অনেক স্মার্ট। তোমরা নিজেরাই পারো তথ্য সংগ্রহ করে, রিসার্চ করে, এনালাইসিস করে সঠিক সত্যটা জানতে। যদি জানতো চাও আমাদের পূর্বজতা কটো ত্যাগ তীতীক্ষা ও রক্ত ঝড়ীয়েছে শুধুমাত্র আমাদের একটা পরিচয় দেয়ার জন্য। এই ইতিহাস গর্বের, এই ইতিহাস অর্জনের, এই ইতিহাস এক বীরত্বপূর্ন জাতির, এক নিষ্পেষিত নিপীড়িত জাতির।
তথ্য অনুসন্ধানে তোমরা খুব দক্ষ বলে জানি। হাটুবুদ্ধি কারো ন্যারেটিভ বিশ্বাস করো না তোমরা, এটা তোমাদের সাথে যায় না। যেদের গোপন কোন উদ্দেশ্য আছে, যারা গুপ্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে, তাদের দেয়া তথ্য বিশ্বাস না করে নিজেরা তথ্য অনুসন্ধান করো।
নীচে কমেন্টে একটা লিংক দিচ্ছি। জাতিসংঘের মাইক্রো ডাটার একটা সাইট। সেখানে প্রতিটা দেশের পপুলেশন থেকে শুরু করে সব ধরনের ডাটা পাবা। সেখান থেকে ডাটা নিয়ে এনালাইসিস করো।
১৯৬৮, ১৯৬৯, ১৯৭০ এ সাড়ে ৬ কোটি জনগনের বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ছিল ২.৫-৩%, অর্থাৎ প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৭ লক্ষ্য করে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অথচ ১৯৭১ আর ১৯৭২ এ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ১.৭৬% ও ১.৯৪%। অর্থাৎ এই দুবছর জনসংখ্যা বেড়েছে গড়ে ৮ লক্ষ্য করে।
এবার হিসাব করো, কি পরিমান জনসংখ্যা কমলে জনসংখ্যার বৃদ্ধি ১৭ লক্ষ থেকে ৮ লক্ষ তে নেমে আসে?
অংকটা, ৩০ লক্ষ’র কাছাকাছি আসলেও, বাস্তবে সেটা আরো বেশী ছিল।
পূর্বপুরুষের আত্মত্যাগ আর ইতিহাসের সাথে বেঈমানি করো না। অতিত খুঁড়ে, উত্তর নিজেরাই পেয়ে যাবা। কারো ন্যারেটিভে বিশ্বাস করো না। দশটা ন্যারেটিভ পড়ো, তারপর নিজেরা বিশ্লেষন করে কনক্লুশনে পৌছাও….

