স্থানীয় সংবাদদাতা
জুলাই-আগস্টে জঙ্গি হামলা ঘটিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসচাপায় রেজাউল করিম (৩৮) নামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (ইআবা) এক নেতা নিহত হন।
তিনি গুলিশাখালী ইউনিয়নের ইআবার সাধারণ সম্পাদক ও আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক ছিলেন।
গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে কর্মসূচি শেষে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে বাসচাপায় নিহত হন তিনি।
নিহত রেজাউল করিম বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের গোছখালী গ্রামের মো. নুরুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইআবা নেতা রেজাউল আমতলী থেকে মোটরসাইকেলে সন্ধ্যা ৬টায় বরিশাল-কুয়াকাটার আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। ঘটখালী ব্রিজের কাছে ঢাকাগামী ছন্দা পরিবহনের একটি বাস মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন।
এরপর দলের নেতাকর্মীরা বাসচালক ও হেল্পারকে আটকের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস লাশ উদ্ধারে গেলে ইআবা নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেন। সড়ক অবরোধে দুই পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। সড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দুই ঘণ্টা পর তারা সড়ক ছেড়ে চলে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আজ বুধবার রেজাউলের মরদেহ দাফন না করে ইআবার জেলা সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে আমতলীর হোসাইনিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বরিশাল-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছেড়ে আসা গাড়িতে ৫ কিলোমিটার জুড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।
এ বিষয়ে ইআবার বরগুনা জেলা সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আমরা রেজাউল করিমকে হারিয়েছি। চালক, হেল্পারকে আটক করতে হবে। রেজাউলের পরিবারকে বাস কোম্পানি ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা তার মরদেহ দাফন করবো না। কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, বাসটি আটক করা হলেও চালক ও হেল্পার পলাতক।
তিনি জানালেন, পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এলে তাদের নিয়ে আলোচনা হবে, আশা করা যায় একটা সুষ্ঠু সমাধান পাওয়া যাবে।
তবে এ বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপির নেতারা। এ ঘটনাকে লাশ নিয়ে ব্যবসা এবং চাঁদাবাজির দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিনিয়র নেতা। পটুয়াখালী বাস মালিক সমিতির কাছ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি করার জন্য লাশ নিয়ে ব্যবসায় নেমেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা, বলেন তারা।
