স্টারলিংকের স্বপ্নভঙ্গ: ইলন মাস্কের তুষ্টি, নাকি ইউনূস সরকারের মার্কেটিং গিমিক?

স্টারলিংকের স্বপ্নভঙ্গ: ইলন মাস্কের তুষ্টি, নাকি ইউনূস সরকারের মার্কেটিং গিমিক?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে স্টারলিংকের আগমন নিয়ে প্রথমে উচ্ছ্বাস থাকলেও এখন তা গ্রাহকদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি অনুমোদনের পর স্টারলিংক গ্রাহক পর্যায়ে অর্ডার নিয়ে ডেলিভারি শুরু করলেও কাস্টমসের জটিলতা ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে আটকে গেছে এই উদ্যোগ।

সমালোচকদের মতে, এই চুক্তি ইলন মাস্ককে তুষ্ট করার একটি কৌশল মাত্র, যেখানে ইউনূস সরকারের কোনো দায়িত্ব বা দায়বদ্ধতা নেই—এটি কেবল তাদের আরেকটি মার্কেটিং গিমিক।

জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ৭-১৫ দিনের মধ্যে স্টারলিংক কিট ডেলিভারি হলেও এখন ১-২ মাস পার হলেও গ্রাহকরা তাদের অর্ডার ডেলিভারি পাচ্ছেন না। কাস্টমসে আটকে আছে অধিকাংশ কিট, ফলে স্টারলিংক নতুন শিপমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে।

এদিকে, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কিছু শপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিকল্প উপায়ে আনা কিট পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে কাস্টমসে সমস্যা হচ্ছে না। এই দ্বৈত নীতি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

স্টারলিংক ব্যবহারকারীদের গ্রুপে দেখা গেছে, অনেকের অর্ডার দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও শিপমেন্ট শুরু হয়নি।

স্টারলিংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাংলাদেশে কাস্টমস-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে তারা নতুন শিপমেন্ট দিতে পারছে না।

এদিকে সমালোচকরা বলছেন, এই চুক্তি সরকারের জন্য একটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ, যা ইলন মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের কোনো দায়িত্বশীল পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ইলন মাস্ক যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অংশ না হতেন, তবে স্টারলিংকের সাথে চুক্তিরও প্রয়োজন মনে করত না ইউনূস-সরকার।

এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকরা হতাশ। বিভিন্ন মাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো সমাধান মিলছে না। স্টারলিংকের স্বপ্ন নিয়ে শুরু হওয়া এই যাত্রা কাস্টমস ও সিন্ডিকেটের জালে আটকে সরকারের উদাসীনতার শিকার হয়েছে।

গ্রাহকদের দাবি, দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে স্টারলিংক সেবা নিশ্চিত করা হোক, যাতে এটি কেবল মার্কেটিং গিমিক হয়ে না থাকে।

Visited 14 times, 1 visit(s) today