বিজয় সরণীতে ‘জুলাই গণমিনার’ বানাতে ভেঙে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য মৃত্যুঞ্জয়ী

বিজয় সরণীতে ‘জুলাই গণমিনার’ বানাতে ভেঙে ফেলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য মৃত্যুঞ্জয়ী
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণপ্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের স্মৃতিতে গণমিনার বানাতে সে জায়গায় আগে থেকে থাকা মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য মৃত্যুঞ্জয়ী সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল থেকে বুলডোজার দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য মৃত্যুঞ্জয়ী ভাঙার কাজটি শুরু হয়। তবে কারা ভাঙছে সে বিষয়ে কেউ বলতে পারছে না। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, লেখক-প্রকাশক ও সাধারণ মানুষ।

শিল্পী চারু পিন্টু বলেন, ঢাকার বিজয় সরণি— একটি নাম, একটি পথ, একটি ইতিহাস। যেখানে পদচিহ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর, যেখানে প্রতিটি দেয়াল, প্রতিটি খোদাই সাক্ষ্য ছিলো এক জাতির জন্মের। সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো একটি ভাস্কর্য—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি, আর তার চারপাশে দৃশ্য ছিলো আমাদের সংগ্রামের, আমাদের রক্তাক্ত জয়ের ইতিহাসের নিঃশব্দ দলিল।

আজ সেই দেয়ালের সামনে পড়ে আছে ভাঙা ইট, মুচড়ে যাওয়া লোহার রড, আর ধুলোমাখা স্মৃতি—যা এখন আর কেউ ছুঁতে চায় না। বিশাল হলুদ এক্সকাভেটরটা দাঁড়িয়ে, মাথা নুইয়ে, যেন নিজেই লজ্জিত তার কাজের জন্য। কিন্তু যন্ত্রের কি বোধ থাকে?, লিখেন এ শিল্পী।

লেখক আজিজুর রহমান খান আসাদ লিখেছেন, ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ভাঙা মানে শুধু একটি শিল্পকর্ম ও ঐতিহাসিক স্মৃতি ধ্বংস নয়, বরং মুক্তিযুদ্ধে পরাজয়ের প্রতিশোধ।

এই ভাঙার ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রকাশক রবিন আহসানও। তিনি বলেন, ‘সরকার একটা সাম্প্রদায়িক সংঘাত তৈরির চেষ্টা করছে মনে হচ্ছে!’

গত ২০শে জুন বীরউত্তম মেজর জেনারেল আজিজুর রহমান সড়ক ও বিজয় সরণি সড়কের মধ্যবর্তী সবুজ চত্বরে অবস্থিত এই ভাস্কর্যের জায়গাতেই জুলাই গণমিনার বানানোর ঘোষণা দেয় গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা।

সেদিন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেছিলেন, ৫ই আগস্টের ‘জয়ের’ মধ্য দিয়ে এ দেশের মানুষ মুক্তির আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করেছে। এই অভ্যুত্থানে নিহত হয়েছে ১ হাজার ৪০০ জন, আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের স্মরণেই নির্মাণ করা হবে এই গণমিনার। এটি নির্মাণে গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গণচাঁদা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।

Visited 15 times, 1 visit(s) today