নিজস্ব প্রতিবেদক
সিলেটে সমন্বয়কদের বেধড়ক পেটালেন ছাত্রদলের নেতারা। জকিগঞ্জে বিএনপি নেতা মামুনুর রশীদের ফেসবুক পোস্টে সমন্বয়করা উল্টাপাল্টা মন্তব্য করার জেরে তিন সমন্বয়ক মারধরের শিকার হন। মঙ্গলবার রাতে জকিগঞ্জ বাজারের এম এ হক চত্বরসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ছাত্রদলের পিটুনির শিকার আহতরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলন সিলেটের সদস্য ও জকিগঞ্জের আনন্দপুর গ্রামের সমন্বয়ক সাফওয়ান ইমরান, ইমরান হোসেন এবং গন্ধদত্ত গ্রামের বাসিন্দা ও সমন্বয়ক ওয়াসিম আকরাম।
আহত ওয়াসিম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বাকি দুজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সম্প্রতি জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে যান সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)। সেখানে একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তিনি নৌকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন। ওই ভিডিওতে সমন্বয়ক ওয়াসিম আকরাম উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্দ হন বিএনপি নেতার সমর্থক ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এর জেরে মামুনুর রশীদের অনুসারীদের সঙ্গে ওয়াসিমের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ঘটনার সূত্র ধরে মঙ্গলবার রাতে জকিগঞ্জ বাজারের বনফুল নামক একটি দোকান থেকে ওয়াসিম, সাফওয়ান ও ইমরানকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান ছাত্রদল কর্মী রনি আহমদ। পরে রাশেদ আহমদসহ ছয়-সাতজন মিলে তাদের বেধড়ক মারধর করেন।
সমন্বয়ক ওয়াসিম আকরাম বলেন, আমাদের পিঠে সুচালো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়। আমি মাথায়ও আঘাত পেয়েছি। হামলাকারীরা বারবার বলছিল ফেসবুকে বুঝেশুনে কমেন্ট করবা।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা রাশেদ আহমদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খেলার টাকা নিয়ে আমাদের ছোট ভাইদের সঙ্গে একটু সমস্যা হয়। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। আমার নাম ভিন্ন উদ্দেশ্যে জড়ানো হয়েছে। ছাত্রদলের অন্য নেতারাও এ ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
জকিগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছি, তবে এখনো কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি।
