প্রতারণা মামলায় এনসিপি নেতার তিন মাসের কারাদণ্ড

প্রতারণা মামলায় এনসিপি নেতার তিন মাসের কারাদণ্ড
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

চেক প্রতারণা মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বান্দরবান জেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী শহিদুর ইসলাম সোহেলকে তিন মাসের কারাদণ্ড এবং অর্থ ফেরতের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এ রায় আবারও দলটির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি, অনিয়ম এবং প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতার প্রমাণ বহন করছে।

গত সোমবার, ১৬ই জুন বান্দরবানের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. নুর মিয়া এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি বৃহস্পতিবার, ১৯শে জুন নিশ্চিত করেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী অরুণ বিকাশ তলুকদার এবং মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. খলিল।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শহিদুর ইসলাম সোহেল পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়ার মো. মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি নবগঠিত এনসিপির বান্দারবানের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্বে আছেন।

এদিকে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় সমন্বয়করা এ ঘটনায় তাদের দণ্ডিত নেতাকে বাঁচাতে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে নানা তদ্বির ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ আছে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ব্যবসায়িক প্রয়োজনে শহিদুর ইসলাম সোহেল অভিযোগকারী হারুনুর রশিদের কাছ থেকে ২ লাখ ১৮ হাজার টাকা ধার নেন। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করায় ২০২৪ সালের ১০ই জানুয়ারি বান্দরবান পৌরসভা মার্কেট ভবনে এক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সোহেল অভিযোগকারীকে ইউসিবি ব্যাংকের একটি চেক প্রদান করেন।

তবে অভিযোগকারী তিন দফায় চেকটি ইউসিবি ব্যাংকে উপস্থাপন করলেও সোহেলের অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রতিবারই চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে একাধিকবার টাকা ফেরতের জন্য অনুরোধ করা হলেও আসামি কোনো গুরুত্ব না দেওয়ায় অভিযোগকারী আইনের আশ্রয় নেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, টাকার ফেরতের কথা বলে অভিযোগকারীকে ভুয়া চেক ধরিয়ে দেন আসামি। পরে তিনবার ব্যাংকের চেক জমা না হলে চেক জালিয়াতি মামলায় আসামিকে তিনমাসের কারাদণ্ড রায় দেন আদালত।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খলিল জানান, টাকা ফেরত না দেয়ায় আসামিকে নিয়ে কয়েকবার সালিশ বৈঠক বসেছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর চেক প্রতারণা আইনে হারুনুর রশিদ মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালত এই রায় দেন।

এদিকে শুধু শহিদুর একা নন, এনসিপি নামক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত এই রাজনৈতিক দলটি সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও নেতাকর্মীদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কারণে আলোচনায় এসেছে।

বিশেষ করে নবগঠিত এই দলটির কিছু নেতা দায়িত্বপ্রাপ্ত অবস্থানে থেকেও দুর্নীতি, প্রতারণা, নারীদের যৌন হয়রানি ও প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

শহিদুর ইসলাম সোহেল এনসিপির জেলা পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা, যিনি নিজেকে “প্রধান সমন্বয়কারী” পরিচয় দিয়ে দাপট দেখাতেন।

Visited 10 times, 1 visit(s) today