ফ্যামিলি কার্ডের খরচের নামে দুস্থ নারীদের থেকে অর্থ আদায় করছেন যুবদল-বিএনপি নেতারা

ফ্যামিলি কার্ডের খরচের নামে দুস্থ নারীদের থেকে অর্থ আদায় করছেন যুবদল-বিএনপি নেতারা
শেয়ার করুন

❐ জেলা প্রতিনিধি


চান্দিনায় সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড এখনো চালু না হলেও কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে গ্রামের অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

মহিচাইল ইউনিয়নের জামিরাপাড়া, জোরপুকুরিয়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের অর্ধশতাধিক অসহায় নারীর কাছ থেকে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এনআইডি কার্ডের ফটোকপি, ছবি এবং জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতা ও এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের তীর মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম এবং জোরপুকুরিয়া গ্রামের বিএনপি নেতা আবুল হোসেনের দিকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, এ ঘটনায় ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন তারা।

জোরপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী নারী রাশিদা বেগম বলেন, বিএনপি নেতা আবুল হোসেন তার এবং তার দুই পুত্রবধূর কাছ থেকে দুই কপি করে ছবি, এনআইডি কার্ডের ফটোকপি এবং প্রত্যেকের জন্য ৫০০ টাকা করে নিয়েছেন।

ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার আশায় প্রায় দুই মাস অপেক্ষার পরও কার্ড না পেয়ে তারা আবুল হোসেনের কাছে যান। কিন্তু তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলে তাদের ঘোরাতে থাকেন।

পরে বাধ্য হয়ে বিষয়টি এলাকার কয়েকজনকে জানালে তারা ভুক্তভোগীদের পক্ষে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

জামিরাপাড়া ও ছেঙ্গাছিয়া গ্রামের আয়েশা, হালিমা ও নূরজাহানসহ আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী নারীও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে মহিচাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, আবুল হোসেনের কথামতোই তিনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও টাকা সংগ্রহ করেছেন।

তার দাবি, নেওয়া টাকা চান্দিনা সদরে যাতায়াত এবং অনলাইনে আবেদন করার খরচ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি নেতা আবুল হোসেন বলেন, তিনটি গ্রাম থেকে মোট ৫৯টি আবেদনের জন্য তিনি কাগজপত্র ও টাকা নিয়েছেন।

তার ভাষ্য, নেওয়া টাকা ও কাগজপত্র এখনো তার কাছেই রয়েছে। যারা চাইবেন, তাদের সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।

চান্দিনায় এখনো ফ্যামিলি কার্ড চালু হয়নি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আবুল হোসেন বলেন, তিনি আগে থেকেই কাগজপত্র ও টাকা নিয়ে রেখেছেন। ফ্যামিলি কার্ড চালু হলে তখন তা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে চান্দিনার ইউএনও মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তার কার্যালয়ে যেহেতু এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে, আবেদনটি পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today