নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং জুলাই আন্দোলনে জামায়াতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ যোদ্ধা সাইদুর রহমান সুজনের মৃত্যু নিয়ে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য, বাড়ছে ক্ষোভ।
কারা কর্তৃপক্ষ এই মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে ব্যাখ্যা দিলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে দেখছেন ‘জাকার্তা মেথডের পারফেক্ট এক্সিকিউশন’ হিসেবে—যার পেছনে রয়েছে জামায়াত-জঙ্গি মদদপুষ্ট রাষ্ট্রীয় কাঠামো।
কারাগারে সুজনের সাথে ছিলেন এমন একজন, যিনি জামিনে মুক্ত আছেন, জানিয়েছেন-
এতো নীচু জানালার গ্রীলে সাথে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে কোন পূর্ণ বয়ষ্ক মানুষ কেন, একজন কিশোরের পক্ষেও ঝুলে পরা সম্ভব না।
সাইদুর রহমান সুজন ছিলেন সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক সংকটের সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা দেশত্যাগে ব্যস্ত তখন সুজন এলাকায় রয়ে যান। তিনি নিজের লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্র হাতে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিদের প্রতিরোধে প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দেন—যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। দেশরক্ষায় এমন অবস্থান সকলেই প্রত্যাশা করেন।
জুলাই বিপ্লবের সময়কার যেসব দৃশ্য জনগণের মনে দাগ কেটেছিল, তার একটি ছিল সুজনের হাতে লাইসেন্স করা শটগান নিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। সেসময়, আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষ নেতা প্রাণরক্ষায় ভারত ও অন্যান্য দেশে সরে গেলেও, তিনি রয়ে যান মাঠে।
পরবর্তীতে জানুয়ারি মাসে রাজধানীর উত্তরায় একটি বাড়ি থেকে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। তার বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা ছিল, যার মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাও রয়েছে।
‘জাকার্তা মেথড’ এবং জামায়াত-জঙ্গি স্টেট অর্গানের ছায়া
এই মৃত্যু কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি কি রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়ায় ‘প্রতিরোধকারীদের দমন নীতি’র প্রকাশ? কারণ, একদিকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন এই মৃত্যুতে নির্লিপ্ত, অপরদিকে সরকারি ঘরানার মিডিয়াগুলো ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে ব্যস্ত।
জাকার্তা মেথডে হত্যার নমুনা দেশে কিছুদিন আগেই আশংকা প্রকাশ করেছিলেন আজিজুর রহমান আসাদ।
‘জাকার্তা মেথডে’ হত্যার নমুনা দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে!
‘জাকার্তা মেথড’ বলতে বোঝানো হয়—রাষ্ট্রীয় কাঠামো ব্যবহার করে প্রতিপক্ষ, বিপ্লবী বা প্রতিবাদীদের বিচারবহির্ভূত হত্যার কৌশল। এই পদ্ধতির উৎপত্তি ইন্দোনেশিয়ায়, কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন দেশে একে ব্যবহারের নজির দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে এই মেথড এখন ‘সুন্দর ও সুশীল’ রূপে ফিরে এসেছে— “রাষ্ট্র সুশীল, কিন্তু মৃত্যু নির্দয়”।
তবে এই প্রথম নয়—গত কয়েক মাসেই আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট অন্তত ২৪ জন নেতা-কর্মীর কারাগারে মৃত্যু হয়েছে, যার বেশিরভাগই ‘হৃদরোগ’ বা ‘আত্মহত্যা’ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়। কোনো ঘটনারই পূর্ণ তদন্তপ্রকাশ হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকার পক্ষ থেকে এখনো কোনো জবাব আসেনি।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক বলেন, “জাকার্তা মেথডের পারফেক্ট এক্সিকিউশন করছে জামায়াত ও জঙ্গি নিয়ন্ত্রিত স্টেট অর্গান। আওয়ামী লীগের কারাবন্দী অনেক নেতা-কর্মীকেই কারা অভ্যন্তরে হত্যা করা হয়েছে। সম্ভবত সামনে আরও হবে। সমস্যা হচ্ছে, এই জঙ্গি-জামায়াত ব্যাকড সুশীল গভমেন্টই আবার মানবাধিকারের ছবক দেবে।”
