জামিনেও মেলেনি মুক্তি, কারাবন্দি অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: পরিকল্পিত হত্যা- অভিযোগ পরিবারের

জামিনেও মেলেনি মুক্তি, কারাবন্দি অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু: পরিকল্পিত হত্যা- অভিযোগ পরিবারের
শেয়ার করুন

❐ বিশেষ প্রতিবেদক


কারাগার ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে। এবার এই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে নূর ইসলাম নামে এক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনদিন আগে আদালত তাকে জামিন দিলেও বিনা মামলায় তাকে আটকে রাখে কারা কর্তৃপক্ষ।

নূর ইসলাম (৫৫) মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মানসিক নিপীড়নে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নিহতের আইনজীবী। পরিবারের ভাষ্য, পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে নূর ইসলামকে।

গতকাল ২রা সেপ্টেম্বর, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানান চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ।

নূর ইসলাম স্থানীয় একটি হাসপাতালের মার্কেটিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ৩১শে জুলাই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় গ্রেপ্তার নূর ইসলামকে কারাগারে আনা হয়েছিল।

২০২৪-এর ৫ই আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় কারাবন্দি অসংখ্য আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর মৃত্যু ঘটে। এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে সন্দেহ। কর্তৃপক্ষের বক্তব্যেও মিলেছে অসঙ্গতি। এ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো তদন্তের দাবি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

নূর ইসলামের মৃত্যু বিষয়ে কারা সূত্রের দাবি, বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে নূর ইসলাম ‘বুকের ব্যথায়’ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে কারাগারে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জামিনের পরও মেলেনি মুক্তি

নূর ইসলামের আইনজীবী শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের জামিন আদেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে অন্যায্যভাবে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।

তিনি জানান, গত ৩১শে আগস্ট আদালত থেকে নূর ইসলামের জামিন মঞ্জুর হয় এবং সেদিন বিকেলেই জামিনের লিখিত আদেশ কারাগারে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী সেদিনই তার মুক্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মিরসরাই থানা পুলিশ তাকে অন্য একটি মামলায় ‘গ্রেপ্তার দেখানোর’ (শোন- অ্যারেস্ট) আবেদন করায় তাকে ছাড়া হয়নি।

ওই আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর দিন ধার্য ছিল।

শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, ২রা সেপ্টেম্বর যখন নূর ইসলাম মারা যান, তখন তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আটকাদেশ বা মামলা ছিল না। জামিন পাওয়ার পর কোনো আদেশ ছাড়া তাকে বন্দি রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। তিনি মানসিক নিপীড়নে মৃত্যুবরণ করেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, নূর ইসলামকে কারাগারে নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল। সেই নির্যাতনের মাধ্যমেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তারা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

কারা হেফাজতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অস্বাভাবিক মৃত্যুর বিভিন্ন তথ্য এখানে

Visited 6 times, 1 visit(s) today