ইউনূস-সরকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাম্পত্য কলহ, ভূমি বিরোধ ও চাকরি প্রার্থীর অভিযোগ!

ইউনূস-সরকারের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাম্পত্য কলহ, ভূমি বিরোধ ও চাকরি প্রার্থীর অভিযোগ!
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এখন পারিবারিক কলহ, জায়গা-জমির বিরোধ এবং চাকরি সংক্রান্ত বিষয়সহ নানা অপ্রাসঙ্গিক অভিযোগও জমা পড়ছে। এতে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। ইউনূস সরকারের ‘প্রহসনের বিচার’ ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

শুরু থেকেই এই ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. তাজুল ইসলাম, যিনি এক সময় ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন, বর্তমানে জামায়াতের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন—এই বিষয়টিও দেশ-বিদেশে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

১৬ই এপ্রিল, বুধবার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম. এইচ. তামিম গণমাধ্যমকে জানান, ট্রাইব্যুনালে এখন পারিবারিক কলহসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ আসছে, যা তাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার বহির্ভূত অনেক অভিযোগ নিয়ে আসছেন বিচারপ্রার্থীরা। সাধারণ মানুষ অনেকেই জানেন না যে, এখানে কী ধরনের বিচার হয়। ফলে তারা যেকোনো অভিযোগ এখানে দাখিল করছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ, জায়গা-জমির বিরোধ, চাকরি সংক্রান্ত সমস্যাসহ নানা অভিযোগ পেয়েছি, যেগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না। এ কারণে সেগুলো আমরা তদন্তে পাঠাই না। তবে এসব আবেদনকে আমরা স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছি, যদিও এতে আমরা বিব্রত হচ্ছি।”

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১০ সালে। এই ট্রাইব্যুনালের অধীনে ইতোমধ্যে একাধিক যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর হয়েছে।

বর্তমানে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতদের বিচারিক কার্যক্রম চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তবে ইউনূস সরকারের একাত্তরবিরোধী ভূমিকা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তথা নাগরিক পার্টির একাত্তরবিরোধী অবস্থানের কারণে এই বিচার কার্যক্রম নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, এটি আওয়ামী লীগ নিধনের নামে একটি প্রহসনের বিচার।

Visited 48 times, 1 visit(s) today