বিসিবি সভায় বিশৃঙ্খলা: নেপথ্যের ঘটনা

বিসিবি সভায় বিশৃঙ্খলা: নেপথ্যের ঘটনা
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভার্চুয়াল বোর্ড সভা সাধারণত দেশের ক্রিকেট উন্নয়নের নীতি-নির্ধারণী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার কথা। কিন্তু গত ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (রোববার) অনুষ্ঠিত বিসিবির চতুর্থ বোর্ড সভাটি পরিণত হয় এক নজিরবিহীন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর ঘটনার মঞ্চে।

পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সভাটি সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে তা এগিয়ে বিকেল ৩টায় নির্ধারণ করা হয় এবং পরিচালকদের তা জানিয়ে দেওয়া হয়। ভার্চুয়াল এই সভা শুরু হওয়ার পর নবাগত পরিচালক ও বিসিবির মেডিকেল বিভাগের প্রধান ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম যোগ দিয়ে কিছুক্ষণ পর মিটিং থেকে বেরিয়ে যান। এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তিনি পুনরায় সভায় যুক্ত হয়ে সভার সময় কেন এগিয়ে আনা হলো, তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলে চেঁচামেচি শুরু করেন।

সভায় উপস্থিত আরেক পরিচালক এবং টানা দু’বার বিপিএল বিজয়ী দল ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান তাকে একই বিষয় নিয়ে বারবার তর্ক না করে সভার মূল আলোচনায় মনোযোগী হওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু এই অনুরোধেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডা. সরকার শামীম। তিনি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অসংলগ্ন আচরণ শুরু করেন এবং মিজানুর রহমানের প্রতি চরম অশ্রাব্য ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। দায়িত্বশীল একটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ সভায় এমন নজিরবিহীন ও অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুরো বিসিবি পরিবার চরম বিব্রত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে একপর্যায়ে বিসিবি সভাপতিও ক্যামেরার সামনে থেকে সরে যেতে বাধ্য হন।

পেশায় চিকিৎসক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম মূলত বিএনপির চিকিৎসক সংগঠন ‘ড্যাব’-এর একজন প্রভাবশালী নেতা। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের দাপট দেখিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিসিবির অনেক পরিচালকের সঙ্গেই রূঢ় ও আপত্তিকর আচরণ করে আসছিলেন। শুধু তা-ই নয়, তার অধীনে থাকা বিসিবির মেডিকেল বিভাগ পরিচালনায় চরম গাফিলতি ও অবহেলার অভিযোগও রয়েছে। দেশের ক্রিকেটে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও শ্রম দেওয়া ক্রীড়াবান্ধব ব্যবসায়ীদের সাথে এমন কুরুচিপূর্ণ আচরণের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় ক্রীড়াঙ্গনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বোর্ড পরিচালকদের এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে ভবিষ্যতে ক্রিকেট অনুরাগী বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

গণমাধ্যমে এই তোলপাড়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর টেলিফোনে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম অবশ্য পুরো ঘটনাটি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বোর্ড মিটিংয়ে সাধারণ কথাবার্তা ছাড়া কোনো বাকবিতণ্ডা বা গালিগালাজের ঘটনা ঘটেনি। তবে তার এই দাবির পরও ঘটনার বেশ কয়েক দিন কেটে গেলেও দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও বিসিবিপাড়ায় ঘটনাটি নিয়ে চরম উত্তেজনা ও তোলপাড় অব্যাহত রয়েছে।

 

Visited 1 times, 1 visit(s) today