‘মাংস কমাও’ স্লোগানে নিজ এলাকায় হান্নান মাসউদকে বেদম পিটুনি

‘মাংস কমাও’ স্লোগানে নিজ এলাকায় হান্নান মাসউদকে বেদম পিটুনি
শেয়ার করুন
স্থানীয় সংবাদদাতা

‘মাংস কমাও মাসউদ’ স্লোগান দিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদকে বেদম পিটুনির অভিযোগ মিলেছে।

আজ সোমবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার জাহাজমারা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

মাসউদের নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তার পথসভায় বাধা ও হামলার ঘটনায় বিএনপির প্রতি অভিযোগ তোলা হয়েছে।

হান্নান মাসউদের সমর্থকদের দাবি, স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা ‘মাংস কমাও মাসউদ’ স্লোগান দিয়ে এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। হামলায় মাসউদসহ এনসিপির পাঁচ-ছয়জন সমর্থক আহত হয়েছে।

যদিও মাসউদের ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়েছে আহতের সংখ্যা ৫০ জনেরও বেশি। কিন্তু সরেজমিনে এত সংখ্যক আহতের কোনো সন্ধান মেলেনি। সমর্থকরা এত আহতের নামও জানাতে পারেননি প্রতিবেদককে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায় হান্নান মাসউদ রাস্তায় বসে রয়েছেন, তার কপালে আহত জায়গাটা ফুলে রয়েছে। ছবিটি শেয়ার করে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মাংস কমানোর পরিবর্তে উল্টো মাংস বেড়ে গেছে মাসউদের।

এদিকে, এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে রাত সাড়ে ৮টা থেকে জাহাজমারা বাজারে সড়কে (ওছখালি-জাহাজমারা সড়ক) অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে এনসিপির কর্মীসমর্থকেরা।

এক পর্যায়ে সেখানেও বিএনপির কর্মীরা ধাওয়া দিলে মাসউদের সমর্থকরা জুতা-স্যান্ডেল ফেলেই দৌড়ে পালয়ে যান। রাত ১০টার দিকে এভাবে দ্বিতীয় দফা ধাওয়া দেওয়া হয় তাদের।

মাসউদের সমর্থকদের কয়েকজন জানান, শনিবার মাসউদ হাতিয়ায় জনসংযোগ করেন। সোমবার বিকেলে তিনি জাহাজমারা বাজারে যান। ইফতারের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাজারে একটি পথসভায় বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তখন বিএনপির কর্মীরা বাজারের পশ্চিম দিক থেকে একটি মিছিল নিয়ে অতর্কিতে পথসভায় হামলা করে। এতে মাসউদসহ ৫ জন আহত হন। এ ঘটনার বিচারের সড়কে অবস্থান করলে সেখানেও তাদের বেদম পিটুনি দেওয়া হয়।

তবে এ বিষয়ে মাসউদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা বিএনপির ফজলুল হক খোকন জানান, জাহাজমারায় কারা কী করেছে, তা তিনি কিছুই জানেন না। মাসউদ এমন কেউ না যে, তাকে নিয়ে বিএনপির ভাবতে হবে।

বিএনপির নেতারা প্রতিবেদককে বলেন, সাংবাদিকরা খোঁজ নিলে দেখতে পাবে মাসউদরা নিজেদের ধান্দাবাজি আর ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি করেছে। শোনা যাচ্ছে, মাসউদ এখন শত কোটি টাকার মালিক। এসব নিয়ে তাদের মারামারি লাগতেই পারে। ফেসবুকে পোস্ট দেখা যায়, মাসউদের মোবাইল ফোন বহন করার জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা জানান, হান্নান মাসউদের পথসভায় হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Visited 111 times, 1 visit(s) today