এক সময় তারা ছিলেন সতীর্থ, ছিলো গভীর বন্ধুত্ব। বাংলাদেশের হয়ে দুজনেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তেন খেলার মাঠে। তবে কয়েক বছর ধরেই তামিম ইকবালের সঙ্গে সাকিব আল হাসানের সম্পর্কের ফাটল হয়ে পড়ে মুখরোচক আলোচনার বিষয়। তবে দুঃসময়ে আবারও পুরনো বন্ধুত্বের টান ফের অনুভব করছেন সাকিব, কারণ বন্ধু তামিম যে হার্ট অ্যাটাক করে হাসপাতালে লড়ছেন জীবন যুদ্ধে। তামিমের জন্য তাই নিজের বিশেষ দিনে মন বিষণ্ণ সাকিবের।
সোমবার (২৪ মার্চ) ছিলো সাকিবের জন্মদিন। আওয়ামী লীগের সাংসদ হওয়ায় বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে অবাঞ্ছিত সাকিব। জন্মদিনের দিনই তার সম্পত্তি ক্রোকের এক আদেশ এসেছে আদলতে। এই দিনেই তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন তামিমের হার্ট অ্যাটাকের খবর। বিকেএসপিতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচের সময়েই হার্ট অ্যাটাক করে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে যান। সাভারের শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হাসপাতালে তার হার্টে পরানো হয় স্টেন্ট। বর্তমানে সেখানেই তামিম আছেন পর্যবেক্ষণে।
এদিকে এই খবর পেয়ে নিজের ফেসবুক পাতায় তামিমের সুস্থতা কামনা করে নিজের মন খারাপের কথা প্রকাশ করেন সাকিব। তিনি লিখেছেন, ‘আজ আমার জন্য বিশেষ দিন, কিন্তু মনটা পুরোপুরি আনন্দে নেই, কারণ আমার প্রিয় সতীর্থ ও বন্ধু তামিম ইকবাল অসুস্থ। মাঠে আমরা একসঙ্গে অনেক লড়াই করেছি, অনেক স্মৃতি রয়েছে, আর সবসময় চাইব আমাদের এই পথচলা আরও দীর্ঘ হোক।
তামিম, তুমি বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম বড় শক্তি। তোমার দ্রুত সুস্থতা ও মাঠে ফিরে আসার জন্য দোয়া করছি। ইনশাআল্লাহ, তুমি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবে।
তামিমের জন্য আপনার দোয়াই হবে, আমার জন্মদিনের সেরা উপহার । দোয়া করবেন—আমার ভাই তামিম যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মাঠে ফিরতে পারে!’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব-তামিমের পথ গিয়েছে বেঁকে। তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে খেলছিলেন ঘরোয়া ক্রিকেট। হার্ট অ্যাটাক পরবর্তী বাস্তবতায় এখন তার সুস্থতাই মূল প্রাধান্যের বিষয়। সাকিব অবসরের রূপরেখা দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকারের রোষানলে ইচ্ছে পূরণের সুযোগ পাননি, দেশে ফিরেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে পারছেন না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাদের আর দেখা না গেলেও পুরনো সাফল্যের স্মৃতি দিয়ে ভক্তদের সোনালী অতীত মনে করিয়ে দিচ্ছেন। সাকিব বলছেন, তার জন্মদিনের সেরা উপহার হবে তামিমের সুস্থতার জন্য সবার প্রার্থনা।
