দেখা করতে এসে যুবদল নেতার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দুই বান্ধবী, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেখা করতে এসে যুবদল নেতার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার দুই বান্ধবী, ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
শেয়ার করুন
সংবাদ প্রতিবেদন

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রেমিকের সাথে দেখা করতে এসে দুই তরুণী যুবদল নেতা ও তার বন্ধুদের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় সোমবার রাতে নাঙ্গলকোট থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তরুণীদের একজন। এতে প্রেমিকসহ সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

৯ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন নুরপুর গ্রামের সেবাখোলা বাজার খোকন মিয়ার স’মিল ঘরের ভেতরে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

মামলার প্রধান আসামী বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন নুরপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম। দ্বিতীয় আসামী ভোমরা গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে স’মিল মালিক খোকন মিয়া। তৃতীয় আসামী নুরপুর গ্রামের রঞ্জু মিয়ার ছেলে ইউনিয়ন যুবদল নেতা মহসিনসহ ৭ জনকে আসামি করা হয়।

গতকাল সোমবার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে সবাই এলাকা ছেড়ে পলাতক। তাদের মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ রয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার দুই তরুণী সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ বান্ধবী। একজনের বাড়ি লক্ষ্মীপুর, অন্যজনের বাড়ি চাঁদপুর। কুমিল্লা নগরের টমছমব্রিজ এলাকার একটি বাসায় তারা ভাড়া থাকেন এবং গৃহকর্মীর কাজ করেন।

জানা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউপির নুরপুর গ্রামের শহীদুল ইসলামের সঙ্গে তাদের একজনের মুঠোফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৯ই জানুয়ারী বৃহস্পতিবার তারা শহীদুলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। প্রেমিক শহীদুল ও যুবদল নেতা মহসিন, স’মিল মালিক খোকন মিয়া তাদের দুজনকে তুলে নিয়ে সেবাখোলা বাজারে খোকন মিয়ার মালিকানাধীন স’মিলে নিয়ে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও গলায় থাকা একটি রুপার চেন নিয়ে যায়।

এরপর প্রেমিক শহীদুল, যুবদল নেতা মহসিন ও স’মিল মালিক খোকনের নেতৃত্বে ৭ জন মিলে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সংঘবদ্ধ তাদের ধর্ষণ করে। এসময় তারা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখেন। কাউকে জানালে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

মহসিনের বাবা রঞ্জু মিয়া বলেন, আমার ছেলে যুবদলের রাজনীতি করে। এজন্য একটি গ্রুপ আমার ছেলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার করা হয়েছিল। এখন মেয়ে দিয়ে আমার ছেলেকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, কোন মহসিন, আমি ঠিক চিনতে পারছি না। আমি এখন ঢাকায় আছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত না জেনে কিছু বলতে চাই না। যদি এ ঘটনায় যুবদলের কেউ জড়িত থাকেন, তাহলে সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা চাই, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয়রা জানান, ৫ই আগষ্টের পর যুবদল নেতা এলাকার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন পুরোদমে। এলাকায় পোস্টারিং করছেন, এলাকার আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাদেরকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছেন। এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে ফজলুল হক বলেন, ঘটনার চার দিন পর গতকাল রাতে এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি আগে জানাজানি হওয়ায় আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।

Visited 2,300 times, 1 visit(s) today