চট্টগ্রামে মামলাবাণিজ্যের বাম্পার ফলন, বাতাসে উড়ছে কোটি কোটি টাকা

চট্টগ্রামে মামলাবাণিজ্যের বাম্পার ফলন, বাতাসে উড়ছে কোটি কোটি টাকা
শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের থানায় আর আদালতে মামলাবাণিজ্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু জুলাই-আগস্টের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের ঘটনাই নয়, একযুগ বা দেড়যুগ আগের বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোকেও কেন্দ্র করে নতুন করে মামলার নামে চলছে বিশাল বাণিজ্য। এতে বিভিন্নজনকে বাদী সাজিয়ে নিরীহ মানুষদের আসামি করা হচ্ছে। শুধু পুলিশ নয়, বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এই অপতৎপরতায় জড়িত। সাথে রয়েছে আইনজীবীদের একটি সিন্ডিকেট।

আর এসব গায়েবি মামলায় আসামির তালিকায় নাম যোগ ও বাদ দেওয়ার জন্য কোটি কোটি টাকা হাতবদল হচ্ছে। ফলে রাতারাতি বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে উঠছে সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান ক্ষমতাধর রাজনৈতিক নেতাদের চাপের মুখে তারা অসহায়। তাদের সাথে কিছু আইনজীবীও সরাসরি জড়িত বলে জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, আইনজীবীদের একটি চক্র সাজানো মামলাগুলোয় মূখ্য ভূমিকা পালন করছে। এজাহার তৈরি করা, আসামির তালিকা সাজানো, সেই তালিকা অভিযুক্তদের কাছে পাঠানো এবং টাকা দিলে নাম মুছে দেওয়ার মতো কাজগুলো পরিচালনা করছেন তারা।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা মুখে মামলা বাণিজ্যের বিরোধিতা করলেও, বাস্তবে তারাই এই কাজে লাভবান হচ্ছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। তদন্তে দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে যাদের নাম আসামি হিসেবে দেওয়া হয়েছে, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিতই ছিলেন না। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি এই মামলাগুলোর আসামি তালিকায় প্রধানত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ নিরীহ লোকজনের নামও দেওয়া হচ্ছে ধান্দাবাজির উদ্দেশ্যে।

৫ই আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রামে মামলার ভয় দেখিয়ে এভাবে আদায় করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। হয়রানি থেকে বাঁচতে বা মামলায় আসামি হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই টাকা দিয়ে সমস্যা মেটাতে বাধ্য হচ্ছেন। যারা টাকা দিতে পারছেন না, তাদের নাম জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে হয়রানিমূলক মামলায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তথ্য অনুযায়ী, আইনজীবীদের একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় বিএনপি-জামায়াতের নেতারা এই বাণিজ্যে যুক্ত রয়েছেন। এত সহজে দ্রুত কাঁচা টাকার মালিক বনে যাওয়ার আর দ্বিতীয় পথ নেই, বুঝতে পেরে উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামসহ মহানগরের বিএনপি-জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীরা নিজ নিজ আইনজীবী ফোরামগুলোর সদস্যদের নিয়ে এই গায়েবি মামলাকে টাকা বানানোর উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন। চট্টগ্রামের আদালতপাড়ায় হাঁটলেই এখন এমন টাউট-বাটপারদের দেখা মেলে।

তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ই আগস্টের পর থেকে রাঙ্গুনিয়ার একজন ব্যক্তিকে ‘বাদী’ বানিয়ে চট্টগ্রাম আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই ব্যক্তি নিজেই আবার অন্য ১৫-২০ জনকে ‘বাদী’ সাজিয়ে ক্রমাগত মামলা করে যাচ্ছেন। প্রতিটি মামলার আগে আসামিদের নাম সরানোর জন্য টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাওয়ার পর কখনও সরাসরি ঘুষের মাধ্যমে, কখনও ‘কম্পিউটার মিসটেক’ দেখিয়ে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চালানো হয়।

এই মামলাবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। এতে জামায়াতপন্থী কয়েকজন আইনজীবী ছাড়াও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির এক নেতার নাম উঠে এসেছে। আগস্টের পর থেকে এই চক্র মিলিতভাবে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। অনুসন্ধানে এই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে পাওয়া গেছে চমকপ্রদ সব তথ্য ও প্রমাণ।

সম্প্রতি রাঙামাটি আদালতে দায়ের করা একটি ‘গায়েবি’ মামলার এজাহারে ২৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তালিকায় রাঙামাটির সিনিয়র আইনজীবীদের পাশাপাশি চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়ের ২০ জন আইনজীবী এবং ৫ জন সাংবাদিকের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রাঙামাটির ওই মামলার বাদী বর্তমানে নিয়মিতভাবে মামলা দায়ের করে সময় কাটাচ্ছেন। নেপথ্যে কাজ করছে আইনজীবীদের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। তারাই ঠিক করে দিচ্ছেন কারা, কারা আসামির তালিকায় থাকবে। বাদী এবং সাক্ষীও সাজায় এই সিন্ডিকেট। অথচ বাদী এবং সাক্ষীরা নিজেরাই জানেন না মামলার আসামিদের নাম।

মামলা দায়েরের আগে সাজানো আসামিদের তালিকা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয়। এরপর ওই আসামিদের স্বজনদের মাধ্যমে ফোন করিয়ে তাদের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয় টাকা দিয়ে নাম বাদ দেওয়ার। এখানে আসামিদের ‘গরু’ বলে সাংকেতিকভাবে উল্লেখ করে দরদাম করা হয়। যারা টাকা দিতে রাজি হন না, তাদের আরও মামলায় জড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়।

এভাবে সাজানো মামলার আসামি তালিকায় যুক্ত হচ্ছে এমন নাম, যারা হয়ত ঘটনার সময় এলাকায়ও ছিলেন না। এমনকি ৮-১০ বছর আগে পাহাড়ধসে মৃত পরিবারের ‘স্বজন’ সেজেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ৫ই ডিসেম্বর, রাঙামাটি পার্বত্য জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০১৭ সালের পাহাড়ধসের ঘটনায় ২০ জন সনাতনী আইনজীবী এবং ৪ জন সাংবাদিকসহ ২৪৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে গিয়ে এই সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আসে।

পরিস্থিতি টের পেয়ে মামলার ফাইলিং আইনজীবী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন এজাহারের কপি ছিঁড়ে ফেলেন এবং মামলা করতে অস্বীকৃতি জানান। এ মামলার তালিকায় রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির অনেক সিনিয়র সদস্যের নামও ছিল।

তদন্তে আরও জানা যায়, মামলার বাদীর সঙ্গে চট্টগ্রামের ৫ আইনজীবী রাঙামাটি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। যাদের তিনজনই জামায়াতপন্থী আইনজীবী সংগঠনের সদস্য।

ওকালতনামায় স্বাক্ষরকারী অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম শহর থেকে পাঁচজন আইনজীবী রাঙামাটিতে এসে মামলাটি করানোর উদ্যোগ নেন। তারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এজাহার আগেই লিখে আনেন এবং সেটি পড়ার সুযোগ না দিয়ে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন। পরবর্তীতে এজাহারে নিজের আত্মীয়স্বজন, রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ বিভিন্ন আইনজীবীর নাম দেখতে পেয়ে তিনি এজাহারের কপিটি তাদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং মামলা করতে অস্বীকৃতি জানান।

তিনি আরও বলেন, “ওরা হয়তো অন্যভাবে মামলাটি করার চেষ্টা করবে। তবে এই ভুয়া মামলার ব্যাপারে রাঙামাটি আদালতের সব আইনজীবী জানেন। আমি আশা করি, কেউ এই মামলা ফাইল করবেন না।”

যদিও শেষপর্যন্ত মামলাটি করা সম্ভব হয়নি, তবে সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন করে মামলার আসামি হওয়া থেকে বাঁচতে টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, তাদের হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, টাকা না দিলে আরও নানা মামলায় ফাঁসানো হবে।

চাঁদা চেয়ে পাঠানো হোয়াটসঅ্যাপের কপিগুলোতে আইনজীবীর স্বাক্ষর রয়েছে এবং তাতে ২৪৮ জনকে আসামি দেখানো হয়েছে। আসামির তালিকায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতা ছাড়াও রয়েছে ঘটনাস্থলের বাইরের লোকজন। এরমধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ২০ আইনজীবী এবং চট্টগ্রামের চার সাংবাদিকও রয়েছেন। আসামির তালিকায় থাকা কয়েকজন নিশ্চিত করেছেন, তাদের ফোনে মামলার কপি পাঠিয়ে নাম বাদ দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবি করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ১৩ই জুন রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কাউখালীর কাশখালী এলাকায় একটি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে মাটিচাপায় ফাতেমা বেগম (৬০), ইসহাক (৩৫) এবং মনির (২৫) নামে তিনজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সেসময়ে একটি মামলা দায়ের হয়, যা পরে নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে, ৫ই আগস্টের পর থেকে সেই পুরোনো ঘটনা ব্যবহার করে চট্টগ্রাম আদালতে একাধিক নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। সর্বশেষ, ৫ই ডিসেম্বর রাঙামাটি আদালতে একই ঘটনা নিয়ে মামলা করতে যান মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি।

নাজিম উদ্দিন রাঙ্গুনিয়ার ১৩নং ইসলামপুর বাচুর মোহাম্মদ পাড়ার মৃত নাছির উদ্দিনের ছেলে। তিনি বিএনপির যুবদলের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সহ-দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তবে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ৫ই সেপ্টেম্বর যুবদলের দপ্তর সম্পাদক নুরুল ইসলাম সোহেলের স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৫ই আগস্টের পর নাজিম উদ্দিন চট্টগ্রাম আদালতে একাধিক মামলা করেছেন এবং আরও কিছু মামলায় সাক্ষী হয়েছেন। তার দায়ের করা মামলাগুলোর আসামি তালিকায় কখনো ১১০ জন, কখনো ১১৬ জন, আবার কোনো তালিকায় ১৬৭ জন বা ২৭৮ জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আগের মামলাগুলোর ঠিকানায় রাঙ্গুনিয়ার ইসলামপুর উল্লেখ থাকলেও ৫ই ডিসেম্বর দায়ের করতে যাওয়া মামলায় তার ঠিকানা রাঙামাটির কাউখালী দেখানো হয়েছে।

এছাড়া, আদালত সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দিন চট্টগ্রাম শহরের ঠিকানা ব্যবহার করেও একাধিক মামলা করেছেন। ফলে তার করা এসব মামলার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, নাজিম উদ্দিন অন্তত ৬টি মামলার অভিযুক্ত আসামি। এগুলো হচ্ছে— ১. চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার এফআইআর নং-২, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯: ধারা- ৪৪৮/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০। ২. রাঙ্গুনিয়া থানার এফআইআর নং-২, তারিখ- ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯: ধারা- ৪৪৮/৩৮৫/৩৪ পেনাল কোড-১৮৬০। ৩. রাঙ্গুনিয়া থানার এফআইআর নং-১, তারিখ ১ নভেম্বর ২০০৫; ধারা- ৩২৩/৩৭৯ পেনাল কোড-১৮৬০। ৪. রাঙ্গুনিয়া থানার এফআইআর নং-১৭, তারিখ ২৫ মার্চ ২০১২; ধারা- ২৬(১)/১০ ১৯২৭ সালের বন আইন; তৎসহ ১৪৩/৪৪৭/৩৫৩/৩৩২ পেনাল কোড-১৮৬০। ৫. সিএমপির কোতোয়ালী থানার এফআইআর নং-১২/৯৫৯, তারিখ ৩ অক্টোবর, ২০১৮। ধারা- ১৫(৩) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন: তৎসহ ৩/৪ ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইন; তৎসহ ১৪৭/১৪৮/১৪৯/১৮৬/৩০৭/ ৩৩২/৩৫৩ পেনাল কোড-১৮৬০। ৬. সিএমপির পতেঙ্গা মডেল থানার এফআইআর নং-১৩, তারিখ ২৬ আগস্ট, ২০০৮; ধারা- ১৯(৪) ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইন।

তবে পুলিশ বলছে, তার বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকতে পারে।

আইনজীবীদের মতে, সাধারণত পাহাড়ধস সংক্রান্ত মামলাগুলো পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়। কিন্তু এই মামলায় আসামি করা হয়েছে রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষকে।

এ বিষয়ে জানতে নাজিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলে তিনি কল কেটে দেন। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

রাঙামাটি আদালতে এই মামলা করতে যাওয়া পাঁচ চট্টগ্রাম আইনজীবীর মধ্যে ছিলেন এপিপি জিয়াউল হক জিয়া। তিনি বলেন, মামলাটি আমরা দায়ের করিনি। এতে রাঙামাটি আইনজীবী সমিতির বর্তমান সভাপতি রফিক সাহেব এবং সাবেক পিপির নাম ছিল, যা আমরা কেটে দিয়েছি। আমরা চাইনি কোনো নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার হোক। ওখানে ১৫০ জন মারা গিয়েছিল। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তারাই মামলাগুলো করতে পারেনি এতদিন।

চট্টগ্রাম আদালতের ২০ জন আইনজীবী এবং ৪ জন সাংবাদিক ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিনা— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমি তো রাঙামাটির আইনজীবী না। মামলা করেছে সেখানকার আইনজীবীরা। মামলার জন্য স্থানীয় আইনজীবী প্রয়োজন হয় এবং সমিতির সদস্য হতে হয়। আমাদের সেখানে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সে সুযোগে মামলার বিষয়ও দেখলাম। যখন দেখি, সেখানকার আইনজীবীরাই আসামি হয়ে গেছেন, তখন মামলাটি করিনি এবং ফিরে এসেছি। নিরীহদের বাদ দিয়ে মামলা করার বিষয়ে পরে ভাবা হবে।

চট্টগ্রাম আদালতে নাজিম উদ্দিনের বাদী হয়ে একাধিক মামলা করার প্রসঙ্গে এপিপি জিয়াউল হক জিয়া বলেন, আকবরশাহ এলাকায় তার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেই তার বাড়িঘর রয়েছে, তাই তিনি বাদী হয়েছেন। তাদের মা সম্ভবত দুইজন এবং ভাইয়ের সংখ্যা বেশ কয়েকজন। কাউখালীতেও তাদের বাড়ি রয়েছে। আমরা সেদিন সেখানে ভাতও খেয়েছি।

আসামিদের মোবাইল ফোনে মামলার কপি পাঠিয়ে চাঁদা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি এই মামলার আইনজীবী না। আমি আইনজীবী সমিতির দুবারের নির্বাচিত সদস্য এবং বর্তমান এপিপি। আমার কালো টাকার প্রয়োজন নেই। আমি সৎভাবে চলি। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে টাকা চাইলে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।

অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক জিয়া নিজেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য এবং সাবেক আইন কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন এই প্রসঙ্গে বলেন, এগুলো বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে করা মামলা। এসব মামলা নিয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। এগুলো টাউট-বাটপারদের কাজ। এরা শুধুমাত্র ধান্দাবাজি করতেই এসব করে।

Visited 214 times, 1 visit(s) today