স্থানীয় সংবাদদাতা
জকিগঞ্জ উপজেলার ছাত্রদল নেতা ও জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক জাফর আহমদ এক অডিও বার্তায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ভয়ংকর হুমকি দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এলাকায় ফিরলেই তাদের ওপর হামলা চালানো হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশের দায়িত্ব হবে তাদের এলাকায় না ফিরতে দেওয়া। অন্যথায় ঘটনার দায় পুলিশের ওপর পড়বে বলে দাবি করেন তিনি।
জকিগঞ্জ উপজেলার বারঠাকুরী ইউনিয়নের উত্তরভাগ নোয়াগ্রামের আকদ্দস আলীর পুত্র জাফর আহমদ এলাকায় ছাত্রদলের অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানান, ৫ই আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা দায়ের করেন জাফর এবং তার অনুসারীরা। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন। জাফর ও তার সঙ্গীরা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অডিও বার্তায় জাফর দাবি করেন, তিনি পুলিশের কর্মকর্তাদের ‘ছোটভাই’ হিসেবে স্নেহ পান এবং তাদের সহযোগিতায় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। বার্তায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, তার নির্দেশনা মেনে না চললে এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়রা আরও জানান, জাফর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে সরাসরি নির্দেশনা পান বলে দাবি করেছেন। অডিও বার্তায় তিনি বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান-মেম্বারসহ নেতাকর্মীদের এলাকায় ঢুকতে বাধা দেওয়ার কথা জানান।
অডিও বার্তায় জাফর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের এবং ‘হাইকমান্ডের’ নির্দেশের কথা জানান। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং জেলা বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কোনো জনপ্রতিনিধি, চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা অন্য নেতাকর্মীরা যেন এলাকায় ফিরে আসতে না পারেন, এমনটাই দাবি জাফরের।
অডিও বার্তাটি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত হোয়াটস্যাপেও পাঠানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন নেতা অডিও ম্যাসেজটি পেয়ে জানান, মামলা ও হামলা থেকে বাঁচতে জাফর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছে চাঁদা চাইছে। ক্ষমতার জোরে জাফর সবার কাছ থেকে বড় অঙ্কের চাঁদা চাইছে। টাকা না দিলে নতুন নতুন মামলার বোঝা টানতে হবে বলে হুমকিও দিয়েছেন। জাফর বলেছেন- চাইলেই নাকি তিনি পুলিশকে দিয়ে যে কাউকে রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার করাতে পারেন, চাইলেই যে কাউকে বাঁচাতে পারেন।
জাফর আহমদের সাথে আরও রয়েছেন আরেক সমন্বয়ক ও শিবিরের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হোসেন আহমদ। তিনি পৌর এলাকার গন্ধদত্ত গ্রামের জামায়াত নেতা শফিকুল হকের পুত্র।
অডিও বার্তায় হুমকি দিয়ে জাফর বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি এলাকায় ফিরে আসে, তবে এলাকায় যে কী অবস্থা করা হবে, সেটা তিনি বলতে পারছেন না। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশ যেন আওয়ামী লীগের লোকজনকে দেখলেই গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়, অন্যথায় ভয়ংকর কিছু ঘটে যেতে পারে।
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করতে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
অডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা প্রাণহানি ঘটতে পারে। সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং জাফর ও তার সহযোগীদের ত্রাসের রাজত্বের অবসান চান।
