বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার কোথায়?

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতার কোথায়?
শেয়ার করুন

।।মতামত।।

বাংলাদেশে মানবিক অধিকার, বিশেষ করে রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা, ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল, সমাবেশ ও প্রতিবাদ করার অধিকার হরণ করা হচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দল ও তাদের সংগঠনগুলোর আন্দোলনকে দমন করার জন্য নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, যার ফলে রাজনৈতিক পরিবেশে অসহনশীলতা বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা, যেমন যুবলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের আটক, এই পরিস্থিতির একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

১৯ নভেম্বর, ২০২৪-এ যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের কানাইতলা এলাকায় যুবলীগের এক ঝটিকা মিছিল থেকে তিন কর্মীকে আটক করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তারা ‘সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটক ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিলে বাধা দেয় এবং তিন যুবলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

এটি শুধু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন নয়, বরং একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক অধিকার, অর্থাৎ জনগণের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার, হরণের প্রতিফলন। এই ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে একাধিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।

এছাড়া, ছাত্রলীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সংগঠনকে বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ করা হলেও, সরকার আওয়ামিলীগ এর অন্যান্য সংগঠনগুলোর মিছিল ও সমাবেশের অধিকার বঞ্চিত করছে, যা রাজনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এভাবে একপাক্ষিকভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দমন করার প্রক্রিয়া দেশের মানবিক অধিকার পরিস্থিতিকে আরও সংকীর্ণ করে তুলছে।

এ ধরণের ঘটনা সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার উপর এক ধরনের নিপীড়নমূলক নীতি গ্রহণের পরিচায়ক। এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক মানবাধিকার, বিশেষত রাজনৈতিক অধিকার ও বাকস্বাধীনতা, ক্ষুন্ন করছে এবং গণতন্ত্রের মৌলিক স্তম্ভকে ধ্বংস করার দিকে এগিয়ে নিচ্ছে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়ন বন্ধ হয় এবং মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

– মৃন্ময় দাশ।

Visited 6 times, 1 visit(s) today