ঢাকা, ১৯শে নভেম্বর,২০২৪- ঢাকা মহানগরীতে তিন দিনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, এসব রিকশার চলাচল বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
আজ (মঙ্গলবার) বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মাহমুদুর রাজীজির নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, আইজিপি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে হবে।
এ বিষয়ে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী ও ব্যারিস্টার তাহসিনা তাসনিম মৃদু। বৃহত্তর ঢাকা সিটি করপোরেশন প্যাডেল চালিত রিকশা মালিক ঐক্যজোটের সভাপতি জহুরুল ইসলাম মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মমিন আলী আদালতে রিট দায়ের করেন।
রাজধানীর অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল বেশি হলেও, অনেক সময় এগুলো মূল সড়কেও চলে আসে। বিশেষত খিলগাঁও, মান্ডা, বাসাবো, মানিকনগর, রামপুরা, বাড্ডা, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, সবুজবাগ, শ্যামপুর, ডেমরা, মোহাম্মদপুর, বছিলা, উত্তরা, ভাটারা, দক্ষিণখান, উত্তরখান, ময়নারটেক, মিরপুর, পল্লবী এলাকায় এর সংখ্যা বেশি।
বর্তমানে ঢাকা শহরে প্রায় ২০ লাখ এর বেশি রিকশা চলাচল করছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশই ব্যাটারিচালিত। অনেক পুরনো প্যাডেলচালিত রিকশায় ব্যাটারি লাগিয়ে তা যান্ত্রিক করা হচ্ছে।
যারা ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ করে ব্যাটারি চালিত রিকশা নামিয়েছে রোজগার বৃদ্ধির জন্য তাদের জন্য এক অশানি সংকেত বয়ে নিয়ে আসতে যাচ্ছে এই নির্দেশ। দৈনিক জমা ও বিদ্যুৎ বিল দিয়ে স্বল্প শিক্ষিত বা অশিক্ষিত তরুনেরা ব্যাটারি চালিত এই সকল রিকশা চালিয়ে ১০০০-১২০০ টাকা আয় করতো। এই আয়ের উপরে নির্ভরশীল ঢাকার অন্তত ৪০-৬০ লাখ মানুষ। এই নির্দেশ বাস্তবায়ন হলে অস্তিত্বের সংকটে পরবে নিম্ন আয়ের এই মানুষেরা।
