সংবাদ প্রতিবেদন
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার একটি নতুন বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তাকে জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে শোনা যায়। সেই অডিও কলের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দেন। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘খুনি’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই অবৈধ সরকারের অত্যাচারে সারাদেশের মানুষ জর্জরিত। তারা আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছে।
ফোনালাপে শেখ হাসিনাকে দৃঢ় কণ্ঠে বলতে শোনা যায়- এই গণহত্যাকারীদের বিচার একদিন হবেই।
রোববার ১৭ই নভেম্বর তাঁর সেই বার্তা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
জানা যায়, সুইডেন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেখানে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ। সেই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ফোন কলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।
অডিওর শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার সমন্বয়কদের খুনি অ্যাখ্যা দেন শেখ হাসিনা। সেইসাথে তাঁর এই বক্তব্য যেন নেতাকর্মীরা রেকর্ড করে প্রচার করেন, তার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, এই অবৈধ সরকারের অত্যাচারে সারাদেশের মানুষ জর্জরিত। কৃষক-শ্রমিকরা বেকার হয়ে গেছে। শ্রমিকরা আন্দোলন করেছে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে। চাকরির বয়স নিয়ে আন্দোলন করতে যমুনার সামনে গেলো, সঙ্গে সঙ্গে গুলি করলো। সেখানে একজন মারা গেলো আর তাদের পিটিয়ে উঠিয়ে দিলো।
বক্তব্যে শেখ হাসিনা আগের ফোনালাপগুলোর মত আবারও তাঁর অবস্থান সুস্পষ্ট করে বলেছেন শিক্ষার্থীদের ওপর তাঁর কোনো রাগ বা ক্ষোভ নেই, তারা তাদের দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু তারা বুঝতে পারেনি তাদেরকে ব্যবহার করা হয়েছে।
আমি চাই তারা পড়াশোনা করুক, ক্লাসে ফিরে যাক, বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি আরও বলেন, ৭ই জুলাই থেকে ছাত্ররা যখন আন্দোলন করে ১৪ই জুলাই পর্যন্ত। তারা সহিংস হওয়ার আগে গায়ে একটা টোকাও পড়েনি। তাদের মতো তারা আসছে-বসছে, আমরা তো তাদের কিছুই বলিনি। পুলিশের কাছে কোনো মেটাল বুলেটা ছিল না। নির্দেশ দিয়েছি কোনো গুলি করবা না। পুলিশি ব্যারিকেড উঠিয়ে তারা ইচ্ছে মতো আন্দোলন করেছে। শুরু থেকে তো অনেক কিছু করা যেত, আমরা তো সেসব করিনি।
‘এ কোটা তো আমিই বাতিল করে দিয়েছি। যেখানে কোনো কোটাই নাই, সেখানে আন্দোলনটা কিসের জন্য ছিল? তারপর আমাদের মন্ত্রীরা তাদের নিয়ে বসে, তাদের সব দাবি মানা হয়। দাবি মানার পরে আবার এক দফা। শেখ হাসিনাকে খুন করো, এ তো কথা? তাদের টার্গেট ছিল আমাকে হত্যা করা’, বলেন শেখ হাসিনা।
তিনি আরো বলেন, এখন আবার হত্যা মামলা দিয়ে বলে গণহত্যার বিচার হবে। গণহত্যার বিচার আমার না, বিচার হবে ইউনূসের। এ সমস্ত খুনের দায়-দায়িত্ব ইউনূসকে নিতে হবে। সে যে হত্যার সাথে জড়িত, তার প্রমাণ তো পাওয়াই যায়। কারণ, জেলখানায় যত জঙ্গি আটক ছিল, তাদেরকে ইউনূস ছেড়ে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে ইউনূসের একটা যোগসাজশ ছিল। বাংলাদেশটাকে সে একটা জঙ্গি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
শেখ হাসিনা এসময় বলেন, শেয়ার মার্কেটের টাকা উধাও, ব্যাংকে টাকা নাই। ব্যাংকের টাকা উধাও। সেসব টাকা গেল কোথায়? ২০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য আমি রেখে আসছি। ১ কোটি পরিবারের জন্য টিসিবি কার্ড দিয়েছি।
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, দেশে যে অরাজকতা চলছে তার বিচার হবে ইনশাল্লাহ। এদের বিচার আমি করবোই ইনশাল্লাহ।
