অর্থনীতি
সাভারের ৭৩ বছর বয়সী সাদেকুর রহমান। গত অক্টোবরে প্রবাসী ছেলের পাঠানো ১ লাখ টাকা তুলতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি (এসআইবিএল) শাখায় গিয়েও বারবার হতাশ হতে হচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে মাত্র ৩৫ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। ব্যাংকের কর্মকর্তারা তাকে বলছেন, কিস্তিতে বাকি টাকা তোলা সম্ভব।
“আমার পরিবারের ন্যূনতম খরচ মেটাতে ৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন,” এমন অসহায় ভাষায় অভিযোগ করেছেন সাদেকুর রহমান। চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে তিনি এখন সংকটে আছেন।
এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো, বিশেষত ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান, তারল্য সংকটে পড়েছে। কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বড় অংকের ঋণ খেলাপি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা সত্ত্বেও গ্রাহকদের টাকা তোলার জটিলতা কাটছে না।
এসআইবিএল-এর সাভার শাখার এক কর্মকর্তা জানান, আমানতকারীদের নগদ অর্থ চাহিদা মেটাতে সমস্যা হচ্ছে। “শাখাটিতে ৮৭ কোটি টাকার আমানত আছে। তবে একসঙ্গে অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে চাইলে কোনো ব্যাংকেরই তা মেটানো সম্ভব নয়,” বলেন তিনি।
এসআইবিএল-এর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ফোরকানুল্লাহ জানান, “আমাদের ব্যাংক তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠছে। গত দুই মাসে ১,৫০০ কোটি টাকার ঋণের কিস্তি আদায় করেছি। কিন্তু কিছু শাখায় হঠাৎ চাহিদা বাড়ায় সমস্যা হচ্ছে।”
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে অপ্রয়োজনীয় ঋণ বিতরণ, পরিচালনার দুর্বলতা এবং অর্থ পাচার এই অবস্থার জন্য দায়ী। এস আলম গ্রুপের বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।
এফএসআইবির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, “আমরা বড় ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে অর্থ ফেরত আনতে কাজ করছি। তবে আমানতকারীদের মৌলিক চাহিদা পূরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি।”
ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু জানান, “সমস্যাগুলো রাতারাতি তৈরি হয়নি। এগুলো সমাধান করতে সময় লাগবে। গ্রাহকদের ধৈর্য ধরতে হবে।”
ব্যাংক খাতে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তারল্য সংকটের সমাধানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কার্যকর পদক্ষেপ এবং ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
সাদেকুর রহমানের মতো হাজারো গ্রাহক তাদের কষ্টার্জিত টাকা পেতে এখন ব্যাংকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছেন। এ সংকট শুধু ব্যাংক ব্যবস্থার নয়, বরং তা সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
