ঢাকা, ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ — বাংলাদেশের অন্তবর্তিকালীন সরকার সেনাবাহিনীর কমিশনধারী কর্মকর্তাদের বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটির ক্ষমতা ৬০ দিন বাড়িয়েছে। পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন মন্ত্রণালয় ১৫ নভেম্বর এই সিদ্ধান্তের পরিপত্র জারি করেছে, যা গতকাল (১৬ নভেম্বর) প্রকাশ করা হয়।
নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন বা এর বেশি র্যাঙ্কের সেনা কর্মকর্তারা দেশের সব অঞ্চলে বিশেষ নির্বাহী বিচারিক ক্ষমতা পাবেন। এই ক্ষমতা আগামী ৬০ দিন, ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এছাড়া, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এ নিয়োগপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদেরও একই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের এই ম্যাজিস্ট্রেটি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সহায়তা করবেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কর্মকর্তাদেরও এই ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এই কর্মকর্তারা ক্রিমিনাল কোড অফ প্রোসিডিউর (সিআরপিসি) ১৮৯৮ এর কিছু ধারায় অপরাধের ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রম চালাবেন, যার মধ্যে রয়েছে গ্রেফতার, জরিমানা ও অন্যান্য বিচারিক কাজ।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে গ্রেফতার আদেশ দেওয়া, জরিমানা আরোপ এবং অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা থাকে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বাউল বলেছিলেন, “সেনাবাহিনীর আগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি ছাড়া গ্রেফতার করার ক্ষমতা ছিল না। তবে এখন তারা সিআরপিসির ৬৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবেন।”
এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন আসন্ন, এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সরকারের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
