বাংলাদেশে কার জায়গা হবে, কার হবে না, নির্ধারণ করে দেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার!

বাংলাদেশে কার জায়গা হবে, কার হবে না, নির্ধারণ করে দেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার!
শেয়ার করুন

বাংলাদেশে কার জায়গা হবে, কার হবে না, নির্ধারণ করে দেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার!

বর্তমান সরকার অবিলম্বে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দিতে ভারতকে চাপ দিবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে উনি এই মন্তব্য করেছেন। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিনমাসে বাংলাদেশের কোন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে দেখা যায় নাই, একমাত্র ডেইলি স্টার সম্পাদক ছাড়া, কিন্তু বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে খুব সহজেই কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা, মতামত ব্যাক্ত করছেন।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে ড. ইউনূস বলেন, ভারত থেকে অবিলম্বে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চাইবে না সরকার। কারণ তিনি মনে করেন এই মুহুর্তে শেখ হাসিনার চেয়ে ভারতের সাথে কুটনৈতিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বেশী জরুরি।

গত ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুথানের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন, এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেন। ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে যতোদিন ইচ্ছা থাকার ব্যাপারে ভারতের সকল রাজনৈতিক দলের ঐক্যমতে সিদ্ধান্ত নেয়। একইসাথে তার শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন দেশে যাতায়াতের জন্য ট্রাভেল পাস দেয়, যার অর্থ দাঁড়ায় শেখ হাসিনা ভারত সরকারের বিশেষ অতিথি হিসাবে যে কোন দেশ ভ্রমণ করতে পারবে এবং উক্ত দেশের ভারতীয় কনস্যুলেট শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ড. ইউনূস বলেন, “নিশ্চিতভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলদেশে তার (শেখ হাসিনা) কোন জায়গা হবে না, আওয়ামী লীগের কোন জায়গা হবে না।

“গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কোন ফ্যাসিবাদী দলের অস্তিত্ব থাকতে পারে না” উল্লেখপূর্বক তিনি বলেন “তারা জনগণকে নিয়ন্ত্রন করেছে, তারা রাজনৈতিক মেকানিজম তৈরী করেছে, তারা নিজ স্বার্থে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাবহার করেছে।

প্রসঙ্গত, ড. ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণ করেই উনার বিরুদ্ধে আনীত সকল মামলা সহ জরিমানার ৬৬৬ কোটি টাকা মওকুফ করেন, মামলার রায় স্থগিত করেন। ড. ইউনূস প্রথম দু’মাসেই নিজ প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যংকের ৫ বছরের জন্য কর মওকুফ করেন। একইসাথে নিজস্ব এলাকার, পরিচিত, নিজ প্রতিষ্ঠানের লোক সমুহ কে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পদ থেকে শুরু করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নিয়োগ প্রদান করেন।

ড. ইউনূস ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ হয়তো ভেঙ্গে যেতে পারে, কিন্তু তার সরকার এমন কিছু করবে না। কারণ তারা রাজনৈতিক সরকার নয়।

তিনি বলেন “ তার (শেখ হাসিনা) বিরুদ্ধে মানবতবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার রায় ঘোষণার পর ভারতে সঙ্গে প্রত্যার্পন চুক্তির আওতায় তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। আমি মনে করি না সে রায় হওয়ার আগে এটা করার দরকার আছে।” রায় এর ব্যাপারে এতোটাই আত্মবিশ্বাসী ড. ইউনূস, যেখানে মাত্রই মানবতা বিরোধী ট্রাইবুন্যাল গঠন করা হয়েছে, যেখানে নিয়োগ দেয়া হয়েছে যুদ্ধপরাধী মামলায়, যুদ্ধপরাধীদের হয়ে মামলা পরিচালনা করা কৌসুলিদের।

ক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ব্যবহার করে ড. ইউনূসের সরকার একদিকে যেমন হাজার হাজার পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মি হত্যার দায়মুক্তি দিচ্ছেন ইনডেমনিটি’র মাধ্যমে, ঠিক একইভাবে অস্থিরতা বা উশৃঙ্খলতা, নাশকতা সৃষ্টি করে রাস্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনাকারীদের হতাহতের জন্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপ্রধানকে মানবাতাবিরোধী অপরাধের আওতায় এনে বিচার করতে চাইছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের জানুয়ারির ৬ তারিখে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনকারীরা ওয়াশিংটনে দাঙ্গার সৃষ্টি করে এবং ওয়াশিংটন ক্যাপিটল এর দখল নেয়। সেই দাঙ্গায় তৎকালীন সরকারের রায়ট পুলিশ হামলাকারীদের উপরে আক্রমন চালায়, গ্রেফতার করে। সেদিন ৬ জন মার্কিন নাগরিক মৃত্যু বরন করেন বং ১৭৪ জনের মতো আহত হন।

১৫০০ মামলা দায়ের করা, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও মামলা দেয়া হয় এই অভিযোগে যে উনি সমার্থকদের উষ্কে দিয়েছেন। এই বিশৃঙ্খলাকারীদের প্রতিরোধের জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এর বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলা করার মতো ব্যাপার হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে।

ড. ইউনূস ফিন্যন্সিয়াল টাইমস কে বলেন, হিন্দুদের বিরুদ্ধে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং খুব অল্প সংখ্যক প্রাণহানী ঘটেছে। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন,

“এই আক্রমন ধর্মের ভিত্তিতে নয়, আওয়ামি অনুসারী হিসাবে টার্গেট হয়েছে।”

অর্থাৎ তিনি প্রকারণ্তরে বললেন যে বিরুদ্ধ রাজনৈতিক মতের উপর আক্রমন খুব একটা বড় কোন ব্যাপার না, এটা স্বাভাবিক, এটা হতেই পারে।

ভারতের সাথে সম্পর্কের ব্যাপারে বলেন, “আমরা একে অপরের প্রতিবেশী। আমাদের একে অপরকে প্রয়োজন। আমাদের মধ্যে অবশ্যই ভালো সম্পর্ক থাকা উচিত” যোগ করেন তিনি।

Visited 117 times, 1 visit(s) today