ইউ হ্যাভ রাইট টু রিমেইন সাইলেন্ট |

ইউ হ্যাভ রাইট টু রিমেইন সাইলেন্ট |
শেয়ার করুন

।।সিরাজুল হোসেন।।

হাজার হাজার পুলিশ হত্যা ও তাদের মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখা, মেট্রোরেলে আগুন, ৪০০ থানায় আগুন দেবার পর নানা অবকাঠামো ধ্বংস ও আওয়ামী লীগের নেতাদের হত্যা এবং তাদের বাসগৃহ ও প্রতিষ্ঠানে আগুন ও লুটপাট এগুলোর উদ্দেশ্যই ছিল তাদের অনুসারীদের রাস্তায় নামানো যাতে একটি গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়। গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেই তার পরের উদ্দেশ্য ছিল সেই অভিযোগে পরিকল্পিত গণহত্যা। এগুলোই এখন সমন্বয়কদের নানা কথায় প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে। এটাই ঘটেছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় যেটা সিআইএ-এর জাকার্তা মেথড বা জাকার্তা পদ্ধতি নামে পরিচিত যা পরে প্রায় দেড় ডজন দেশে প্রয়োগ করা হয়েছে আমেরিকানদের পছন্দ নয় এমন জাতীয়তাবাদ বা সমাজতন্ত্রকে সমূলে নিধন করতে।

জাকার্তা পদ্ধতি (Jakarta Method) বলতে ১৯৬৫ সালে ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন সমর্থিত সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে চালানো একটি ব্যাপক দমন-পীড়নের কৌশল বোঝানো হয়। সিআইএ উদ্ভাবিত এ পদ্ধতির মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ায় ১০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করা হয় যারা সামরিক বাহিনী, মুসলিম মৌলবাদী ও আমেরিকানদের কাছে রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষ বা তাদের সমর্থক ছিল। পরবর্তীতে একই ধরনের কৌশল অন্যান্য দেশে প্রয়োগ করা হয়। এই পদ্ধতি শুধু কমিউনিস্টদের বিরুদ্ধে নয়, বরং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধেও প্রয়োগ করা হয়েছিল, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সমর্থিত সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক স্বাধিকারকে দমন করেছে।

জাকার্তা পদ্ধতি আসলে যুদ্ধত্তোর জাপানে প্রয়োগকৃত রেড পার্জ বা জাপানের জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্র উৎখাতের জন্য যে হত্যা ও উৎখাতের ষড়যন্ত্র, তারই উন্নত সংস্করণ। জাপানে ‘রেড পার্জ’ অভিযানে প্রায় ২০,০০০ কমিউনিস্ট এবং বামপন্থী সমর্থক কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে এই অভিযানের ব্যাপ্তি শুধুমাত্র কমিউনিস্টদের উপর সীমাবদ্ধ ছিল না; যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে যেসব জাতীয়তাবাদী বুদ্ধিজীবী এবং সামরিক কর্মকর্তারা রাজনৈতিক পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছিল, তাদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর ফলে জাপানের রাজনৈতিক, সামরিক, এবং শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বামপন্থী ও উগ্র জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ উচ্ছেদ করা হয়। আমেরিকান প্রশাসন গণমাধ্যম এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘রেড পার্জ’ অভিযান পরিচালনা করে। বামপন্থী এবং উগ্র জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের বরখাস্ত করা হয়, এবং শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করে এমনভাবে সাজানো হয় যাতে সামরিক জাতীয়তাবাদ এবং কমিউনিজমের প্রতি ঘৃণা জন্মে।

লেখকের পোস্ট:

জাকার্তা পদ্ধতি কেবল কমিউনিস্ট বিরোধিতা নয়, বরং বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদ এবং স্থানীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দমনমূলক কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এসব দেশে অ্যান্টি-পলিটিক্স প্রতিষ্ঠা করে তাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধকে ধ্বংস করেছে। ইন্দোনেশিয়ায় জাকার্তা পদ্ধতি অনুসারে কাদের হত্যা করতে হবে সেটার তালিকা আমেরিকা ব সিআইএ কতৃকও সরবরাহ করা হয়েছিল।

১৯৭৫ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বিভিন্নভাবে জাকার্তা পদ্ধতি প্রয়োগের চেষ্টা চলছে। চেষ্টা চলছে নানা ভাবে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদকে উত্যক্ত করে একটি বড় ধরণের সংঘাত সৃষ্টির যার মাধ্যমে পূর্ণভাবে জাকার্তা পদ্ধতি প্রয়োগ করে বাংলাদেশকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ ও জনগণের রাজনীতিমুক্ত করে মার্কিন পুতুল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায়।

এটা নিয়ে একটি রোমহর্ষক তথ্যচিত্র-

লেখক পরিচিতি: লেখক, ব্লগার, রাজনীতি বিশ্লেষক

Visited 93 times, 1 visit(s) today